ঋষভ পন্থ https://www.cricketwinner.com ঋষভ পন্থ Tue, 17 Feb 2026 06:35:26 GMT https://validator.w3.org/feed/docs/rss2.html https://github.com/jpmonette/feed en Copyright © 2024 Cricket Winner. All Rights Reserved. <![CDATA[আর পারছেন না, এবার আইপিএলের আগে নিজেকে 'ফিট আ্যান্ড ফাইন' করে তুলতে চাইছেন ঋষভ পন্থ, শুরু নতুন চিকিৎসা!]]> https://www.cricketwinner.com/cricket-news/rishab-pant-will-be-fit-and-fine-before-the-ipl2026/ https://www.cricketwinner.com/cricket-news/rishab-pant-will-be-fit-and-fine-before-the-ipl2026/ Sun, 15 Feb 2026 15:05:36 GMT

ঋষভ পন্থ—ভারতীয় ক্রিকেটের এক আবেগের নাম। উইকেটের পিছনে তাঁর উপস্থিতি যেমন দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়, তেমনই ব্যাট হাতে নামলে প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক তৈরি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বারবার চোট, দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং শারীরিক লড়াই যেন তাঁর ক্রিকেটজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। নিউ জিল্যান্ড সিরিজের আগে পাওয়া চোট এখনও পুরোপুরি সারেনি তাঁর। তবু থেমে নেই লড়াই। আইপিএলের আগে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার জন্য মরিয়া ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার এবার নিয়েছেন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য—হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি বা এইচবিওটি।

নতুন উদ্যমে ফিরবেন পন্থ!

বোর্ডের উদ্যোগে এই চিকিৎসা শুরু করেছেন পন্থ। আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানে এইচবিওটি এখন আর নতুন কোনও বিষয় নয়। বিশ্বের বহু এলিট অ্যাথলিট, ফুটবলার, অলিম্পিয়ান এবং পেশাদার খেলোয়াড়েরা চোট সারাতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নেন। উচ্চচাপযুক্ত একটি বিশেষ কেবিনের মধ্যে শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয় এই প্রক্রিয়ায়। এতে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যায়, যা কোষের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে তোলে। ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত সেরে ওঠে, প্রদাহ কমে এবং পুনর্বাসনের সময়কাল অনেক ক্ষেত্রে কমে আসে।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, পন্থ একটি গোলাকার কেবিনের ভিতরে ঢুকছেন। দরজা বন্ধ হওয়ার পর তিনি ভিতরে বসে থাকেন নির্দিষ্ট সময় ধরে। সম্পূর্ণ বদ্ধ পরিবেশে এই চিকিৎসা চলাকালীন শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয় উচ্চচাপে। বাইরে থেকে দেখতে এটি কোনও বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারের যন্ত্রের মতো হলেও, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি একটি প্রমাণিত পুনর্বাসন পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে এই চিকিৎসা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কী জানিয়েছেন পন্থ?

পন্থ নিজেও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তাঁর ফিটনেসের উন্নতির কথা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব পিকলবল লিগের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, রোজ একটু একটু করে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্রে নিয়মিত পরিশ্রম করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস, আবার ছিল ধৈর্যের ছাপ। দ্রুত মাঠে ফেরার ইচ্ছা যেমন রয়েছে, তেমনই তাড়াহুড়ো না করে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফেরার মানসিকতাও স্পষ্ট।

চোটের পর পন্থের মানসিক পরিবর্তনের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেই বলেছেন, চোট পাওয়ার পর ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ভালবাসা আরও গভীর হয়েছে। মাঠের বাইরে থাকতে হলে একজন খেলোয়াড় বুঝতে পারে খেলাটার গুরুত্ব কতটা। প্রতিদিন অনুশীলন, ফিটনেস ট্রেনিং, রিহ্যাবিলিটেশন—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া মানসিকভাবে যেমন কঠিন, তেমনই মানসিক দৃঢ়তাও গড়ে তোলে। পন্থের কথায় বারবার উঠে এসেছে কৃতজ্ঞতার বিষয়টি। আশপাশের মানুষজন, চিকিৎসক দল, ফিজিও, পরিবার এবং বোর্ডের সহায়তার কথা তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন।

নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন পন্থ!

ঋষভ পন্থের ক্রিকেটজীবন এমনিতেই চোট ও প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা। গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আর আগের মতো ক্রিকেটে ফেরা সম্ভব হবে না। দীর্ঘ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, রিহ্যাবিলিটেশন—সবকিছুর পর ধীরে ধীরে তিনি মাঠে ফিরেছেন। এরপর ইংল্যান্ড সিরিজে গোড়ালি ভাঙার মতো বড় চোটও তাঁর কেরিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও ফিরেছেন তিনি। প্রতিবারই আরও শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছেন।

এই ধারাবাহিক লড়াই থেকেই তৈরি হয়েছে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। পন্থ নিজেই বলেছেন, প্রতিটি প্রত্যাবর্তন তাঁকে জীবনের বিষয়ে নতুন কিছু শিখিয়েছে। কৃতজ্ঞতা কী, দায়িত্ববোধ কী, নিজের কাজকে কীভাবে আরও ভালবাসা যায়—এই বিষয়গুলো তিনি শিখেছেন বারবারের চোট আর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাঁর কথায় ক্রিকেট শুধুই একটি খেলা নয়, এটি তাঁর জীবনের পরিচয়, তাঁর অস্তিত্বের অংশ। তাই চোট পেলে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা তিনি মিস করেন, সেটা হল মাঠে নেমে ক্রিকেট খেলা।

আইপিএলকে সামনে রেখে পন্থের এই প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএল শুধুমাত্র একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নয়, এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মঞ্চ হিসেবেও কাজ করে অনেক সময়। ফিটনেস, ম্যাচ ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস—সবকিছুই এখানে গড়ে ওঠে। পন্থ জানেন, সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়ে মাঠে নামলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসা, থেরাপি, রিহ্যাব—সবকিছুই চলছে পরিকল্পনা মাফিক। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, কিন্তু লক্ষ্য একটাই—সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে ফেরা।

হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি কী?

হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি এই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানে চোট সারানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিশ্রাম আর ফিজিওথেরাপি নয়, কোষের স্তরে পুনর্গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এইচবিওটি সেই জায়গাতেই কাজ করে। কোষে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করে।

পন্থের ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলে একজন খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়ে। কিন্তু পন্থের বক্তব্যে সেই হতাশা নেই, রয়েছে ইতিবাচক মানসিকতা। তিনি বারবার বলেছেন, নিজেকে আরও ভাল করে তোলার চেষ্টা করছেন। ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিদিন নিজের উন্নতি দেখতে চান তিনি। এই মনোভাবই তাঁকে বারবার ফিরিয়ে এনেছে মাঠে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও পন্থের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক রাখছে না। উৎকর্ষ কেন্দ্রে আধুনিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ফিটনেস ট্রেনার, স্পোর্টস সায়েন্স টিম—সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই পদ্ধতি শুধু একটি খেলোয়াড়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের ভারতীয় ক্রিকেট কাঠামোর দৃষ্টিভঙ্গিকেও তুলে ধরে। যেখানে ফিটনেস, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য এবং ক্যারিয়ারের স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঋষভ পন্থের এই লড়াই আসলে শুধু একজন ক্রিকেটারের সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প নয়। এটি একটি মানসিক শক্তির গল্প, ধৈর্যের গল্প, আত্মবিশ্বাসের গল্প। বারবার চোট পাওয়া সত্ত্বেও থেমে না যাওয়ার মানসিকতা, নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা এবং ক্রিকেটের প্রতি অটুট ভালবাসাই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। আইপিএলের আগে তাঁর এই প্রস্তুতি তাই শুধুই একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া নয়, এটি তাঁর আরেকটি প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির গল্প।

সমর্থকদের চোখ এখন তাঁর দিকেই। কবে আবার মাঠে নামবেন, কবে আবার ব্যাট হাতে ঝড় তুলবেন, কবে আবার উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবেন—এই প্রশ্নগুলোই ঘুরছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। কিন্তু পন্থ নিজে জানেন, প্রত্যাবর্তনের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল ধৈর্য। সুস্থ শরীর, সুস্থ মন আর আত্মবিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়েই সম্ভব আরও একটি শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন।

হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি তাঁর সেই প্রস্তুতিরই একটি অংশ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, বোর্ডের পরিকল্পনা এবং নিজের অদম্য মানসিকতা—সব মিলিয়েই ঋষভ পন্থ ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন আরও একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে। আইপিএলকে সামনে রেখে তাঁর এই যাত্রা তাই শুধুই একটি চিকিৎসার খবর নয়, এটি ভারতীয় ক্রিকেটের এক সাহসী যোদ্ধার প্রত্যাবর্তনের আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা।

]]>