টি২০ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ https://www.cricketwinner.com টি২০ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ Tue, 17 Feb 2026 01:52:48 GMT https://validator.w3.org/feed/docs/rss2.html https://github.com/jpmonette/feed en Copyright © 2024 Cricket Winner. All Rights Reserved. <![CDATA[হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই আক্রমকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলিতে মজলেন হিটম্যান, ভারত–পাক ম্যাচেই ধরা পড়ল অন্য ছবি!]]> https://www.cricketwinner.com/cricket-news/hitman-hugs-akram-amidst-handshake-controversy/ https://www.cricketwinner.com/cricket-news/hitman-hugs-akram-amidst-handshake-controversy/ Mon, 16 Feb 2026 14:40:06 GMT

যদিও ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়, তবুও ভারত–পাক ম্যাচে প্রতিটি আচরণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণকে অনেক সময় বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।


ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই আবেগ, ইতিহাস এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মিশেল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটের মাঠেও পড়েছে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ম্যাচ শেষে বা আনুষ্ঠানিক মুহূর্তে ‘হ্যান্ডশেক’ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নতুন মাত্রা পেয়েছে এক বিশেষ দৃশ্যের পর—যখন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক Rohit Sharma কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার Wasim Akram-কে আলিঙ্গন করেন।

হ্যান্ডশেক বিতর্কের প্রেক্ষাপট!

গত কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ম্যাচ শেষে হাত মেলানো বা কথাবার্তা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা নিয়ে দুই দেশের সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও দেখা যায়।

যদিও ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়, তবুও ভারত–পাক ম্যাচে প্রতিটি আচরণ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণকে অনেক সময় বৃহত্তর কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়।

আরো পড়ুন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিন্তু ছিটকে গেল এই দেশ!

কলম্বোতে মিলল ভিন্ন বার্তা!

এই আবহেই কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে এক ভিন্ন ছবি সামনে আসে। ICC পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে ট্রফি প্রদর্শনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Rohit Sharma। ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তিনি ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ICC-র প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা এবং Wasim Akram।

ট্রফি উন্মোচনের পর আনুষ্ঠানিক মুহূর্তে রোহিত ও আক্রম প্রথমে হাত মেলান এবং পরে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ মুহূর্ত বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল, কারণ তখনই হ্যান্ডশেক বিতর্ক নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

এই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই একে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখেন—যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান রাজনৈতিক বা ক্রীড়া উত্তেজনার ঊর্ধ্বে স্থান পায়।

প্রাক্তনদের সম্পর্ক বনাম বর্তমান বাস্তবতা!

শুধু রোহিত ও আক্রম নন, আরও কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকেও ভারত–পাক ম্যাচে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়। Harbhajan Singh-কে দেখা যায় পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক Misbah-ul-Haq-এর সঙ্গে কথা বলতে। অন্যদিকে Sunil Gavaskar এবং Waqar Younis-এর মধ্যেও ছিল স্বাভাবিক হাসি-ঠাট্টা।

এই দৃশ্যগুলো অনেকের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে—বর্তমান প্রজন্মের উপর যেসব চাপ ও প্রত্যাশা কাজ করে, প্রাক্তনদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে কম। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পেশাদার সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিজ্ঞতার বন্ধন রয়েছে, যা মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছাপিয়ে যায়।

ICC বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রীড়াসুলভ আচরণ!

ICC পুরুষদের টি-২০ বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। এই মঞ্চে প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি ছবি কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। তাই রোহিত–আক্রমের আলিঙ্গনকে অনেকেই ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

রোহিত পরে ভারতীয় দলের ডাগআউটে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের উৎসাহ দেন। তাঁর উপস্থিতি ও আচরণ অনেকের মতে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দেয়—মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু পারস্পরিক সম্মানও বজায় থাকবে।

মাঠের লড়াই কি ২২ গজেই সীমাবদ্ধ?

ভারত–পাক ম্যাচে আবেগ সবসময়ই তীব্র। সমর্থকদের প্রত্যাশা, মিডিয়ার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে এই ম্যাচ আলাদা মাত্রা পায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কি কেবল ২২ গজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়?

অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রীড়াসুলভ আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিত–আক্রমের মুহূর্তটি কেবল একটি আলিঙ্গন নয়, একটি প্রতীকী বার্তা।

হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই কলম্বোয় দেখা সেই আলিঙ্গন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বর্তমান ক্রিকেটারদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে প্রাক্তনদের সহজ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক অন্য ছবি তুলে ধরছে।

ক্রিকেট ইতিহাসে ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই চিরকালই স্মরণীয় থাকবে। তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও পারস্পরিক সম্মান ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব যে গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন Rohit Sharma এবং Wasim Akram।

]]>
<![CDATA[টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে পৌঁছালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিন্তু ছিটকে গেল এই দেশ!]]> https://www.cricketwinner.com/cricket-news/west-indies-reached-the-super-eights-of-the-t20-world-cup-2026/ https://www.cricketwinner.com/cricket-news/west-indies-reached-the-super-eights-of-the-t20-world-cup-2026/ Mon, 16 Feb 2026 14:01:30 GMT

২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে কোন দলগুলি শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। সেই তালিকায় জোরালোভাবে নাম লিখিয়ে ফেলল West Indies। ১৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক Wankhede Stadium-এ নেপালকে হারিয়ে তারা নিশ্চিত করেছে সুপার এইটের টিকিট। এই জয়ে শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং গোটা গ্রুপ পর্বে নিজেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি মিলেছে ক্যারিবিয়ানদের।

এই ম্যাচটি ছিল ICC Men's T20 World Cup 2026-এর গ্রুপ সি পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতিমধ্যেই আগের ম্যাচগুলিতে ভালো অবস্থানে ছিল। তবে সুপার এইটে নিশ্চিতভাবে জায়গা পেতে নেপালের বিরুদ্ধে জয় প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে, নেপালের সামনে ছিল বাঁচা-মরার সমীকরণ। ফলে ম্যাচের গুরুত্ব ছিল দুই দলের জন্যই অনেক।

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেপালকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। টি২০ ক্রিকেটে প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নেপাল শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। তবুও দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যান দীপেন্দ্র সিং আইরি। তার অর্ধশতরান নেপালকে সম্মানজনক সংগ্রহে পৌঁছতে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা তোলে ১৩৩ রান।

আরো পড়ুন: হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই আক্রমকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলতে মজলেন হিটম্যান

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন Jason Holder। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে নেপালের মিডল অর্ডার ভেঙে দেন। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ ও বৈচিত্র্যময় বোলিং নেপালের রান তোলার গতি কমিয়ে দেয়। অন্য প্রান্তে সহায়তা করেন দলের অন্য বোলাররাও, ফলে শেষ পর্যন্ত নেপাল বড় স্কোর গড়তে পারেনি।

১৩৪ রানের লক্ষ্য টি২০ ফরম্যাটে তেমন বড় নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের চাপের ম্যাচে যেকোনো রান তাড়া করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা শুরু থেকেই ইতিবাচক মনোভাব দেখান। ওপেনাররা দ্রুত রান তুলতে থাকেন এবং পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগান। যদিও একটি উইকেট দ্রুত পড়ে, তবুও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতছাড়া হয়নি।

দলের অধিনায়ক Shai Hope ছিলেন এই রানতাড়ার মূল স্থপতি। তার অপরাজিত ৬১ রান ছিল পরিণত ও দায়িত্বশীল ইনিংসের উদাহরণ। শুরুতে তিনি পরিস্থিতি বুঝে খেলেন, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী গতি বাড়ান। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শিমরন হেটমায়ার। দুই ব্যাটারের সমন্বয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহজেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৫.২ ওভারে, হাতে থাকে ৯ উইকেট।

এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গ্রুপ সি-তে তিন ম্যাচে তিন জয় এনে দেয়। পয়েন্ট টেবিলে তারা শীর্ষস্থান দখল করে এবং সুপার এইট নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, এই হার নেপালের টুর্নামেন্ট যাত্রা কার্যত শেষ করে দেয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে নেপালের লড়াই প্রশংসনীয় হলেও ধারাবাহিকতার অভাব তাদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

গ্রুপ সি-তে প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র। England cricket team-ও এই গ্রুপে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের এগিয়ে দিয়েছে। সুপার এইটের আগে এই আত্মবিশ্বাস দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি২০ ক্রিকেটে ঐতিহ্যবাহী শক্তি। তারা দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে—২০১২ ও ২০১৬ সালে। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ফাইনালে তাদের নাটকীয় জয় এখনো সমর্থকদের মনে অম্লান। সেই ঐতিহ্য এবং আগ্রাসী ক্রিকেটের দর্শন নিয়ে তারা ২০২৬ সালের আসরেও নাম লিখিয়েছে অন্যতম দাবিদার হিসেবে।

এই ম্যাচের কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলেছে। প্রথমে নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখা, পরে চাপমুক্ত কিন্তু সচেতন ব্যাটিং—এই দুই ধাপে তারা ম্যাচ জিতেছে। টি২০ ক্রিকেটে নেট রান রেটও গুরুত্বপূর্ণ, আর ১৫ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করায় সেই ক্ষেত্রেও তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, নেপালের জন্য এই ম্যাচ ছিল অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের মঞ্চ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার সুযোগ সীমিত হলেও তারা লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে। ভবিষ্যতের জন্য এই অভিজ্ঞতা তাদের দলগঠনে সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে পারফরম্যান্স শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতার পরীক্ষা নয়, মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়া করেননি। অধিনায়ক হোপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং সঠিক সময়ে আক্রমণাত্মক হয়েছেন। এই ম্যাচে তার নেতৃত্বগুণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

সুপার এইট পর্বে প্রবেশ মানেই প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে ওঠা। সেখানে প্রতিটি ম্যাচ কার্যত নকআউটের সমান গুরুত্ব বহন করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে সেমিফাইনালের পথ তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে বড় দলগুলির বিরুদ্ধে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে আরও শৃঙ্খলা প্রয়োজন হবে।

]]>
<![CDATA[সূর্য-ইশান জুটি আর বুমরাহ ম্যাজিক—হাইভোল্টেজ ম্যাচে নীল বাহিনীর দাপটে ধরাশায়ী পাকিস্তান!]]> https://www.cricketwinner.com/cricket-news/india-defeated-pakistan-by-61runs-in-t20worldcup2026/ https://www.cricketwinner.com/cricket-news/india-defeated-pakistan-by-61runs-in-t20worldcup2026/ Sun, 15 Feb 2026 23:44:22 GMT

২০২৬ সালের ICC Men's T20 World Cup 2026-এ ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ মানেই কেবল একটি ক্রিকেট লড়াই নয়, বরং উপমহাদেশের আবেগ, ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহুমাত্রিক প্রকাশ। কলম্বোর R. Premadasa Stadium-এ অনুষ্ঠিত এই গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ সংঘর্ষ। দুই দেশের কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চোখ রেখেছিলেন। মাঠের পরিবেশ, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Ishan Kishan-এর দাপটে চূর্ণ হয়ে গেল পাকিস্তান!

টসে জিতে পাকিস্তান প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বড় ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নতুন নয়, বিশেষ করে যখন রাতের শিশির বলকে ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক করে তুলতে পারে। তবে এই পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেন ভারতের টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। শুরুতে কিছুটা সতর্কতা থাকলেও পাওয়ারপ্লের মধ্যেই আক্রমণাত্মক রূপ নেন Ishan Kishan। বাঁহাতি এই ওপেনার শুরু থেকেই বলের লাইন বুঝে শট নির্বাচন করেন। শর্ট বলকে পুল, ফুল লেংথ ডেলিভারিকে কভার ড্রাইভ—সব মিলিয়ে তার ইনিংস ছিল পরিকল্পিত ও পরিণত।

ইশানের ৭৭ রানের ইনিংস কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের স্কোরবোর্ডকে গতি দেয়। বড় ম্যাচে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রাথমিক আধিপত্য মানসিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। পাকিস্তানের পেসাররা লাইন-লেংথ পরিবর্তন করে আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করলেও ইশান রোটেশন ও বাউন্ডারির সমন্বয়ে রানরেট ধরে রাখেন। তার ব্যাটিংয়ে ঝুঁকি ছিল, কিন্তু তা ছিল হিসেবি ঝুঁকি—যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফলতার অন্যতম শর্ত।

Suryakumar Yadav-এর অনন্য মাস্টারস্ট্রোক!

মাঝের ওভারে ইনিংসকে ভারসাম্য দেন Suryakumar Yadav। আধুনিক টি-টোয়েন্টির অন্যতম সৃজনশীল ব্যাটার হিসেবে পরিচিত সূর্যকুমার তার স্বভাবসিদ্ধ ৩৬০-ডিগ্রি শট খেলে ফিল্ডিং সেটআপ ভেঙে দেন। পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণের বিরুদ্ধে তার স্কুপ, রিভার্স সুইপ ও ল্যাপ শট ইনিংসে বৈচিত্র্য আনে। যদিও তিনি অর্ধশতরান করতে পারেননি, তবে দ্রুতগতির রান দলকে ১৭৫/৭ সংগ্রহে পৌঁছে দেয়, যা এই উইকেটে লড়াইযোগ্য স্কোর হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভারতের ইনিংসের শেষদিকে কিছু উইকেট পড়লেও রান তোলার গতি পুরোপুরি থেমে যায়নি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ পাঁচ ওভার প্রায়ই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে। এখানে ভারতের ব্যাটাররা সিঙ্গেল-ডাবলের সঙ্গে বাউন্ডারি যোগ করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখেন। সামগ্রিকভাবে ভারতের ব্যাটিং ছিল পরিকল্পিত—পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণ, মধ্য ওভারে স্থিতি, আর ডেথ ওভারে গতি।

১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। নতুন বলে নিখুঁত লাইন-লেংথে আক্রমণ শুরু করেন Jasprit Bumrah। বুমরাহর বিশেষত্ব তার ভিন্নধর্মী অ্যাকশন ও ডেলিভারির ভ্যারিয়েশন। তিনি অফ-স্টাম্পের বাইরে ধারাবাহিক গুড লেংথ বল করে ব্যাটারদের ড্রাইভে প্রলুব্ধ করেন, আবার হঠাৎ ইয়র্কার বা স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়ে ছন্দ ভেঙে দেন। তার প্রথম স্পেলেই পাকিস্তানের শীর্ষক্রম ভেঙে পড়ে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মধ্য ওভারে আক্রমণে আসেন Hardik Pandya। অলরাউন্ডার হিসেবে তার ভূমিকা দ্বিমুখী—বল ও ব্যাট দু’দিকেই অবদান রাখার ক্ষমতা। এই ম্যাচে বল হাতেই তিনি বড় প্রভাব ফেলেন। বাউন্সার ও স্লোয়ার বলের মিশ্রণে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারকে বিভ্রান্ত করেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে তিনি রানতাড়ার সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দেন। ফিল্ডিংয়েও তার তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পাকিস্তানের ব্যাটাররা রানরেট বাড়াতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে বাধ্য হন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চাপ বাড়লে প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় শটের আশ্রয় নিতে হয়, যা উইকেট হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়। এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিয়মিত উইকেট পড়ায় স্কোরবোর্ডের চাপ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান ম্যাচ হারায় ৬১ রানে। এই জয় ভারতের জন্য কেবল দুই পয়েন্টই নয়, নেট রানরেটেও বড় সুবিধা এনে দেয়।

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে মানসিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় দল শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেছে। কোচিং স্টাফ ও বিশ্লেষক দলের কৌশলগত প্রস্তুতিও এখানে উল্লেখযোগ্য। প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল, যা মাঠে সফলভাবে কার্যকর হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহাসিকভাবে আবেগঘন। অতীতের বহু স্মরণীয় লড়াই দুই দলের সম্পর্ককে আরও তীব্র করেছে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে পেশাদারিত্বই প্রধান। এই ম্যাচেও দুই দল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা ও গভীরতা স্পষ্টভাবে কাজ করেছে। টপ অর্ডারের আক্রমণাত্মক শুরু ও বোলিং ইউনিটের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স একত্রে দলকে এগিয়ে দেয়।

এই জয়ের ফলে ভারত গ্রুপ পর্বে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় এবং সুপার এইটে ওঠার পথ সহজ করে।

]]>