RCB vs CSK Highlights: ধোনিহীন চেন্নাইয়ের 'ভরাডুবি' অবস্থা, পরপর তিন ম্যাচের হারে মাথা ঠুকছেন চেন্নাই ফ্যানেরা!
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচের হাইলাইটস।

মহেন্দ্র সিং ধোনি নেই। আর তাই এই পরিস্থিতিতে আরসিবি'র বিরুদ্ধে হারের পর যে কোনও চেন্নাই-ফ্যান ধোনিকেই খুঁজবেন। না, তিনি ব্যাটার নন, উইকেটকিপার নন। নেতা ধোনির অভাব কার্যত হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে সিএসকে। কোনও বিশ্বমানের বোলার নেই, আর রান তাড়া করার মতো মালমশলাও নেই। সবচেয়ে বড় কথা, মাঠে দাঁড়িয়ে দলকে দিশা দেখানোর মতো তেমন অভিজ্ঞ কেউ নেই। তাই দাক্ষিণাত্য ডার্বি বলতে গেলে একতরফা। আরসিবি'র বিরাট ২৫০ রানের লক্ষ্য যে টপকানো সম্ভব নয়, তা আগেই অনুমান করা হয়ে গিয়েছিল সবার। সেটাই হল। চেন্নাই থমকে গেল ২০৭-এ। ৪৩ রানে জিতে আইপিএলের শীর্ষস্থান দখল করে নিলেন বিরাট কোহলিরাই। অন্যদিকে হারের হ্যাটট্রিকে লিগ টেবিলের সবার শেষে জায়গা হল চেন্নাইয়ের।
আরসিবি-র দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সিএসকের বিরুদ্ধে!
এদিন চিন্নাস্বামীতে টসে জিতে প্রথমে বল করারই সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। মরশুমের প্রথম জয় পেতে সিএসকে’র একমাত্র কাজ ছিল আরসিবি’কে অল্প রানে আটকে দেওয়া। কিন্তু সেটা তো হল না। জীবনদান পেয়েও বিরাট কোহলি বড় রান এদিন পেলেন না। অংশুল কাম্বোজের বলে দুবের হাতে বল তালুবন্দি করেন বিরাট। তখন তাঁর নামের পাশে ছিল ২৮ রান। কিন্তু ফিল সল্টকে এদিন ফর্মে ফিরিয়ে আনলেন খলিল আহমেদরা। ৩টে চার ও দু’টো ছক্কায় ৩০ বলে ৪৬ রান করে যান। তবে ঝড় ওঠা তখনও যেন বাকি ছিল।
দুরন্ত ইনিংস খেললেন দেবদত্ত পাড়িক্কল:
ঘরোয়া ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন তিনি। ২৯ বলের হাফসেঞ্চুরিতে সেই নিদর্শন রেখে গেলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক রজত পাতিদার সাহসী ক্রিকেটে ১৯ বলে ৪৮ করে যান। টিম ডেভিড বিশ্বকাপে একেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না। কিন্তু এদিন চেন্নাই বোলাররা তাঁকেও বিধ্বংসী মেজাজে ফেরালেন।
টিম ডেভিডের ঝোড়ো ইনিংস:
২৫ বলে ৭০ রান এল টিম ডেভিডের ব্যাট থেকে। জেমি ওভারটনের এক ওভারে নিলেন ৩০ রান। একটা বল গিয়ে পড়ল একেবারে চিন্নাস্বামীর ছাদে।৩ উইকেট হারিয়ে আরসিবি করে ২৫০ রান। আইপিএল ২০২৬-এ এখনও পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ স্কোর।
আরো পড়ুন: কথা নয়, 'কাজ' করেই নির্বাচকদের জবাব দিলেন মহম্মদ শামি!
হতশ্রী পারফরম্যান্স চেন্নাইয়ের!
চেন্নাই দলে সেই মালমশলা নেই যে রানের পাহাড় টপকে অসাধ্যসাধন করে। বিশ্বকাপের ম্যাজিক ব্যাটটা বোধহয় ফাইনালের দিক আহমেদাবাদেই ফেলে এসেছেন সঞ্জু স্যামসন। এদিন আউট হলেন মাত্র ৯ রানে। আইপিএলে এখনও পর্যন্ত রানের দেখা পাননি। আগে বলা হত তিনি জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক নন। এবার কি সেই 'রোগ' আইপিএলে দেখা দিল? নাকি রাজস্থান থেকে নতুন দলে এসে থিতু হতে পারেননি? অন্যদিকে দলের নেতার ব্যাটিংয়েও যে আগুন নেই। রুতুরাজ আউট হলেন মাত্র ৭ রানে। ১০ রানে ২ উইকেট পড়ে গেলে এত বড় রান তাড়া করা অসম্ভব হয়ে যেতে বাধ্য। একটু পরে আউট আয়ুষ মাত্রেও। সরফরাজ খানকেই একমাত্র চেষ্টা করতে দেখা গেল। তবে তাঁর ২৫ বলে ৫০ রানটা তপ্ত বালিতে জল ছেটানোর মতো। ১৪.২০ কোটির কার্তিক শর্মা করলেন মাত্র ৬ রান, বিশ্বকাপের আরেক নায়ক শিবম দুবের সংগ্রহ ১৮। ধুঁকতে থাকা চেন্নাই ব্যাটিংকে তবু কিছুটা টানলেন প্রশান্ত বীর (৪৩) ও জেমি ওভারটন (৩৭)। তাঁদের দাপটেই সিএসকে'র রান ২০০ পেরোল। গতবার লিগ টেবিলে সবার শেষে ছিল চেন্নাই। এবারও সেই জায়গাটা আগাম কিনে নিল তারা?
ট্যাগ:


