অভিষেকের শূন্যের হ্যাটট্রিকের বোঝা নিয়েই সুপার এইটে মাঠে নামবে ভারত, নিয়মরক্ষার ম্যাচে ‘নিয়ম’ মেনেই জয় হাসিল করে নিল নীল বাহিনী!

শিবম দুবের ঝড়ো অর্ধশতরান ও বরুণ চক্রবর্তীর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭ রানে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষ করল ভারত। ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর রক্ষা করে অপরাজিত অবস্থায় পরের পর্বে উঠল টিম ইন্ডিয়া।

Souvik Das
Souvik Das

4 মিনিট পড়া
Collected Image - Indian Cricket Team

আজই বিজয়ী হন!

সর্বশেষ ক্রিকেট আপডেট পান, আমাদের কমিউনিটিতে যোগ দিন

iconiconicon

আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারত ও নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম Narendra Modi Stadium-এ। টুর্নামেন্টের এই ম্যাচটি শুধু গ্রুপ টেবিলের সমীকরণই নয়, দুই দলের আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত ১৭ রানে জয় তুলে নিয়ে ভারত অপরাজিত থেকে পরবর্তী পর্বে পৌঁছে যায়, যদিও ম্যাচের বেশ কিছু দিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

টস ও শুরুর লড়াই!

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। টি-২০ ফরম্যাটে বড় মঞ্চে আগে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে চাপ তৈরি করা এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুরুটা ভারতের পক্ষে একেবারেই সুখকর ছিল না। ওপেনিং জুটিতে প্রত্যাশিত আগ্রাসন দেখা যায়নি। দ্রুত উইকেট পড়ায় মাঝের সারির ব্যাটারদের দায়িত্ব বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতিতে ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবে। তারা ঝুঁকি ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখে রান তোলেন। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের রান খুব বেশি না হলেও, উইকেট হাতে থাকায় বড় স্কোরের সম্ভাবনা বজায় ছিল।

আরো পড়ুন: নামিবিয়ার ম্যাচে বাদ Shaheen Shah Afridi!

শিবম দুবের ঝড়ো ইনিংস!

ম্যাচের মোড় ঘোরানো পারফরম্যান্স আসে শিবম দুবের ব্যাট থেকে। মাত্র ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। চার ও ছয়ের মিশেলে গড়া এই ইনিংস ভারতের স্কোরকে দ্রুত এগিয়ে দেয়। বিশেষ করে শেষ পাঁচ ওভারে তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নেদারল্যান্ডস বোলারদের চাপে ফেলে দেয়।

দুবের ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল শট নির্বাচনে পরিপক্বতা। তিনি কেবল শক্তির ওপর নির্ভর করেননি; ফাঁকা জায়গা খুঁজে বাউন্ডারি আদায় করেছেন। টি-২০ ক্রিকেটে ফিনিশারের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তারই একটি উদাহরণ এই ইনিংস।

অন্যদিকে হার্দিক পাণ্ড্য শেষ দিকে কার্যকর ৩০ রান যোগ করেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৯৩/৬—একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর।

নেদারল্যান্ডসের জবাবি লড়াই!

১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস আত্মসমর্পণ করেনি। শুরু থেকেই তারা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। মাঝের ওভারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। বাস ডে লিডে ৩৩ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যা দলকে ম্যাচে ধরে রাখে।

তবে প্রয়োজনীয় রানরেট ক্রমশ বাড়তে থাকায় চাপও বাড়ে। শেষ পাঁচ ওভারে ম্যাচ খোলা ছিল, কিন্তু ভারতের বোলিং আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়। নির্ধারিত ওভার শেষে নেদারল্যান্ডস থামে ১৭৬/৭-এ। ফলে ১৭ রানে জয় নিশ্চিত করে ভারত।

বোলিংয়ে বৈচিত্র্য ও নিয়ন্ত্রণ!

ভারতের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল স্পিন ও ভ্যারিয়েশনের সঠিক ব্যবহার। ভরসাযোগ্য স্পিনার হিসেবে আবারও নজর কাড়েন Varun Chakaravarthy। তাঁর রহস্যময় স্পিন ও গতি পরিবর্তন ডাচ ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ম্যাচের গতি থামিয়ে দেন।

শিবম দুবেও বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। পার্ট-টাইম বোলার হিসেবে দুটি উইকেট নিয়ে তিনি অলরাউন্ড অবদান রাখেন। ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের জয়ের ব্যবধান নিশ্চিত করে।

আরো পড়ুন: আবারও তড়িঘড়ি প্রেমানন্দ মহারাজের শরণাপন্ন বিরুষ্কা! কিন্তু কেন?

গ্রুপ পর্বে ভারতের ধারাবাহিকতা!

এই জয়ের মাধ্যমে ভারত গ্রুপ পর্ব শেষ করে অপরাজিত অবস্থায়। টুর্নামেন্টের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নকআউট পর্যায়ে মানসিক সুবিধা দেয়।

তবে কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। ওপেনারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা উদ্বেগের কারণ। বড় দলের বিরুদ্ধে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে কয়েকটি মিসফিল্ড ও ক্যাচ ফেলাও আলোচনায় এসেছে। নকআউট পর্বে ছোট ভুল বড় মূল্য চোকাতে পারে।

নেদারল্যান্ডসের ইতিবাচক দিক!

হার সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসের পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। তারা বড় দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে। ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ও বোলিংয়ে পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা এবং উইকেট তোলার প্রচেষ্টা তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

টি-২০ বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় এই ধরনের পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং পরবর্তী আসরে উন্নতির ভিত্তি গড়ে দেয়।

এর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

গ্রুপ পর্বে সাফল্য পেলেও ভারতের সামনে এখন আরও কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। সুপার এইট বা নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচ কার্যত ফাইনালের সমান। তাই ব্যাটিং অর্ডারে স্থিরতা, বোলিং রোটেশনে কৌশল এবং ফিল্ডিংয়ে নিখুঁততা বাড়ানো জরুরি।

এই ম্যাচ দেখিয়েছে যে ভারত চাপের মধ্যে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে বড় স্বপ্ন পূরণ করতে হলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই হবে আসল চাবিকাঠি।

১৯৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ, শিবম দুবের আক্রমণাত্মক ইনিংস এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং—এই তিন উপাদান মিলেই ভারতের জয় নিশ্চিত হয়েছে। নেদারল্যান্ডসও লড়াই করে প্রমাণ করেছে যে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।

টি-২০ বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই শিক্ষা দেয়। ভারতের জন্য এটি ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জয়, আর নেদারল্যান্ডসের জন্য ছিল অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ। সামনে আরও বড় লড়াই অপেক্ষা করছে—এখন দেখার বিষয়, কে কতটা প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামে।

ট্যাগ:

আমাদের অনুসরণ করুন

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা আমার কাজ নয়

রোহিত শর্মা, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপা দেওয়া নিয়ে প্রশ্নে