CSE
Toss Index543.6 −3.11%Match Index764.8 +4.27%TIX-CPL2663.5 −3.11%TIX-AVII26101.7 +1.66%TIX-SAWT26111.1 +6.66%Caribbean Premier League 2026 · CSXM3612 ML vs UAE +0.00%M3611 BT vs GAW +0.00%M3610 AFG vs IND +4.27%M3609 ZIM-W vs SA-W +4.27%M3608 NAM vs SA +4.27%M3607 BT vs JK −1.29%M3606 GAW vs TKR −0.17%M3605 ZIM-W vs SA-W +4.27%M3604 NAM vs SA +4.27%M3603 BT vs SNP −1.98%Toss Index543.6 −3.11%Match Index764.8 +4.27%TIX-CPL2663.5 −3.11%TIX-AVII26101.7 +1.66%TIX-SAWT26111.1 +6.66%Caribbean Premier League 2026 · CSXM3612 ML vs UAE +0.00%M3611 BT vs GAW +0.00%M3610 AFG vs IND +4.27%M3609 ZIM-W vs SA-W +4.27%M3608 NAM vs SA +4.27%M3607 BT vs JK −1.29%M3606 GAW vs TKR −0.17%M3605 ZIM-W vs SA-W +4.27%M3604 NAM vs SA +4.27%M3603 BT vs SNP −1.98%
নিউজ

মন্দিরের সিঁড়িতে বসে মায়ের সাথে ফুল বিক্রি করতেন, আজ সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে ঝড় তুললেন! পাথুম নিশাঙ্কার অনুপ্রেরণার গল্প চমকে দেবে!

মন্দিরের সিঁড়িতে চুক্তি সই থেকে ২০২৬ সালের আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে স্মরণীয় শতরান—পাথুম নিশাঙ্কার অনুপ্রেরণামূলক উত্থানের গল্প, যেখানে সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও বড় মঞ্চে সাফল্য মিলেছে এক সুতোয়।

Collected image-Pathum Nissanka
Collected image-Pathum Nissanka

ক্রিকেট দুনিয়ায় অনেক উত্থানের গল্প শোনা যায়, কিন্তু Pathum Nissanka-র জীবনকাহিনি বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। শ্রীলঙ্কার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভরসা। ২০২৬ সালের ICC Men's T20 World Cup 2026-এ তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা ঐতিহাসিক ইনিংস যেন সেই দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি।

মন্দিরের সামনে কীভাবে জীবন বদলে গেল নিশাঙ্কার?

শ্রীলঙ্কার কালুতারা অঞ্চলে নিশাঙ্কার জন্ম। আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না পরিবারে। তাঁর বাবা স্থানীয় মাঠে কাজ করতেন, আর মা মন্দিরের সামনে ফুল বিক্রি করতেন সংসার চালানোর জন্য। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি অদম্য টান ছিল নিশাঙ্কার। কিন্তু প্রতিভা থাকলেই তো সুযোগ আসে না—প্রয়োজন হয় সঠিক দিশা ও সমর্থনের।

এই সমর্থনই একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে আসে। স্থানীয় এক কোচ তাঁর খেলা দেখে মুগ্ধ হন এবং কলম্বোর একটি স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় মন্দিরের সিঁড়িতেই। সেখানেই নথিপত্রে সই হয়। ক্রিকেটজীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা যেন এক পবিত্র আশীর্বাদের মধ্য দিয়েই।

আরো পড়ুন: সুপার এইটে ভারতের প্রতিপক্ষ কারা?

কলম্বো অধ্যায়: নিশাঙ্কার স্বপ্নের পেছনে ছোটা!

কলম্বোতে এসে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় নিশাঙ্কাকে। পড়াশোনা, অনুশীলন, আর্থিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। তবে কোচ ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তা তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ধীরে ধীরে স্কুল ক্রিকেটে নজর কাড়েন, পরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে জাতীয় দলে জায়গা করে দেয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই তিনি নিজের স্থিরতা ও টেকনিক্যাল দক্ষতার জন্য প্রশংসিত হন। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর ইনিংস গড়ার ক্ষমতা দলের জন্য বড় সম্পদ হয়ে ওঠে।

টি-২০ বিশ্বকাপে সেরা মুহূর্ত!

২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিশাঙ্কা খেলেন স্মরণীয় ইনিংস। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। মাত্র ৫২ বলে অপরাজিত ১০০ রান—যার মধ্যে ছিল একাধিক চার ও ছক্কা। চাপের মুহূর্তে তাঁর সংযম এবং শট নির্বাচনের পরিপক্বতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই শতরান শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের জন্যও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই জয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটমঞ্চে নিশাঙ্কার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়।

আরো পড়ুন: শ্রীলঙ্কা বনাম অস্ট্রেলিয়া: নিসাঙ্কার সেঞ্চুরিতেই বদলে গেল সব সমীকরণ!

নিশাঙ্কার মানসিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব!

নিশাঙ্কার সাফল্যের পেছনে শুধুই প্রতিভা নয়, রয়েছে মানসিক দৃঢ়তা। ছোটবেলার আর্থিক অনিশ্চয়তা তাঁকে শিখিয়েছে ধৈর্য ও অধ্যবসায়। বড় মঞ্চে চাপ সামলে খেলার ক্ষমতা তাঁর অন্যতম শক্তি। কোচ ও সতীর্থদের মতে, অনুশীলনে তাঁর নিষ্ঠা এবং নিজের খেলার বিশ্লেষণ করার অভ্যাসই তাঁকে ধারাবাহিক পারফর্মার বানিয়েছে।

টি-২০ ফরম্যাটে যেখানে দ্রুত রান তোলাই মূল লক্ষ্য, সেখানে নিশাঙ্কা দেখিয়েছেন কীভাবে সঠিক সময়ে আক্রমণ ও প্রতিরোধের ভারসাম্য রাখা যায়। পাওয়ারপ্লে-তে হিসেবি আগ্রাসন এবং মাঝের ওভারে ইনিংস গড়ার দক্ষতা তাঁকে বিশেষ করে তুলেছে।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট গত কয়েক বছরে পুনর্গঠনের পথে। তরুণ ক্রিকেটারদের উত্থান দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে। নিশাঙ্কা সেই প্রজন্মের অন্যতম মুখ। তাঁর পারফরম্যান্স শুধু পরিসংখ্যানের দিক থেকে নয়, দলীয় আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপে তাঁর শতরান শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটভক্তদের কাছে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ এনে দিয়েছে। কঠিন সময় পেরিয়ে ওঠা এক ক্রিকেটারের সাফল্য দেশের তরুণদের জন্যও প্রেরণা।

মন্দিরের সিঁড়িতে স্বাক্ষর থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপের মঞ্চে শতরান—পাথুম নিশাঙ্কার যাত্রা প্রমাণ করে যে প্রতিভা ও পরিশ্রম একসঙ্গে থাকলে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। তাঁর গল্প শুধু ক্রিকেট নয়, জীবনেরও শিক্ষা দেয়—পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হয় দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে।

২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের সেই ইনিংস হয়তো ভবিষ্যতে আরও অনেক বড় সাফল্যের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের ইতিহাসে পাথুম নিশাঙ্কা ইতিমধ্যেই নিজের নাম লিখে ফেলেছেন, আর সামনে রয়েছে আরও বহু সম্ভাবনার দিগন্ত।

লেখক সম্পর্কে

Souvik Das
লিখেছেন

Souvik Das

editor · 738 নিবন্ধ

বিগত ৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার সাথে লেখালেখি করেছি। কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই লেখালেখির দুনিয়ায় মূলত পা রাখা। ক্রিকেটের একজন অন্ধ ভক্ত। এর আগেও আমি বহু চ্যানেলে লেখালেখি করেছি। যেখানে প্রতিটি জায়গায় আমি আমার লেখা দিয়ে খেলাধুলার আবেগ, উত্তেজনা এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা আমার কাজ নয়

রোহিত শর্মা, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপা দেওয়া নিয়ে প্রশ্নে