বড় ধাক্কা! রানের পাহাড় গড়া তারকা, এবার থামলেন, অবসর ঘোষণা করলেন এই প্রাক্তন অধিনায়ক!
টি২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন কানাডার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ধালিওয়াল বিদায়ের কথা জানান। তাঁর অবসর কানাডা ক্রিকেটে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে কানাডার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসা অভিজ্ঞ ব্যাটার নাভনীত ধালিওয়াল অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলমান ICC Men's T20 World Cup 2026-এর মধ্যেই তিনি এই ঘোষণা করেন। তাঁর বিদায় কেবল একজন খেলোয়াড়ের অবসর নয়, কানাডা ক্রিকেটের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধালিওয়াল বহু বছর ধরে কানাডা দলের ব্যাটিং লাইনআপের মূল স্তম্ভ ছিলেন। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য তিনি সহখেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের কাছে ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কানাডার পরিচিতি গড়ে তুলতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু ও উত্থান!
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই নাভনীত ধালিওয়াল দ্রুতই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর আগ্রাসী কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যাটিং শৈলী কানাডা দলের জন্য বহুবার ম্যাচ জয়ের ভিত গড়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে ওঠেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ওপেনার এবং পরবর্তীতে অধিনায়ক।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি কানাডার সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, যা কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
আরো পড়ুন: নামিবিয়ার ম্যাচে বাদ Shaheen Shah Afridi!
বিশ্বকাপের মঞ্চে ধালিওয়াল!
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা কঠিন গ্রুপে পড়লেও দলটি লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে। যদিও ফলাফল প্রত্যাশামতো হয়নি, তবুও দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে ধালিওয়ালের উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে তিনি শেষবারের মতো কানাডার জার্সিতে মাঠে নামেন—যা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আবেগঘন সমাপ্তি।
এর আগেও বিশ্বকাপ মঞ্চে তিনি নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন। বড় দলের বিরুদ্ধে চাপের মুখে তাঁর অর্ধশতক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ কানাডার ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নেতৃত্ব ও প্রভাব!
কেবল ব্যাটিং নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও ধালিওয়ালের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অধিনায়কত্বে কানাডা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতেছে এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে। তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণা।
কানাডার মতো অ্যাসোসিয়েট দেশের জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধালিওয়াল সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। দলের মধ্যে পেশাদার মানসিকতা গড়ে তোলা, ফিটনেস সংস্কৃতি উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত।
আরো পড়ুন: ‘গার্লফ্রেন্ড’ প্রকাশ্যে আসতেই ইশানের মায়ের প্রতিক্রিয়া ভাইরাল!
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অবসর ঘোষণার পর ধালিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না। ভবিষ্যতে কোচিং বা গ্রাসরুট পর্যায়ে কাজ করে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটার তৈরি করতে চান। কানাডায় ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং প্রতিভা বিকাশে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, তাঁর মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা কোচিং ও মেন্টরশিপে যুক্ত হলে দেশের ক্রিকেট কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
কানাডা ক্রিকেটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ!
ধালিওয়ালের বিদায়ের পর কানাডা দলকে নতুন নেতৃত্ব ও ব্যাটিং ভরসা খুঁজে নিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ ক্রিকেটারদের উত্থান আশাব্যঞ্জক। বিশ্বকাপ চলাকালীন কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় নিজেদের সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়েছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
অ্যাসোসিয়েট দেশ হিসেবে কানাডার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ নয়। সীমিত সুযোগ, আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দলটি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ধালিওয়ালের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নাভনীত ধালিওয়ালের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সংখ্যায় মাপা গেলেও তাঁর প্রভাব কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি কানাডা ক্রিকেটে স্থিতিশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের মানসিকতা এনে দিয়েছেন। তাঁর বিদায় দলের জন্য আবেগঘন হলেও এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাসোসিয়েট দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধালিওয়াল সেই দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে। তাঁর অবসর কানাডা ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও দল গঠনের কৌশল নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশকের বেশি সময় ধরে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করার পর নাভনীত ধালিওয়ালের বিদায় নিঃসন্দেহে এক যুগের সমাপ্তি। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ক্রিকেটপ্রেম আগামী দিনে কানাডার ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেই প্রত্যাশা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ তাঁর শেষ উপস্থিতি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে বিশেষ স্থান করে নেবে। একজন নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেটার হিসেবে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
ট্যাগ:
Souvik Das
editor





