নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল ছিনিয়ে নিল ভারত, ২০২৬-এর টি-টোয়েন্টি 'বিশ্বকাপ ট্রফি' ভারতের!
এভাবে ১৫৯ রানেই শেষ নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। আর ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ট্রফি নিজের নামে করে নেয়।

আজ, ৮-ই মার্চ রবিবার ভারত আর নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। প্রথমে টস হেরে ব্যাটিং করতে হয় সূর্যকুমার যাদবদের।
বিশ্বকাপ ফাইনালে টস জিতলেন মিচেল স্যান্টনার।
ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের মধ্যে ট্রফি নিয়ে এলেন দুই বিশ্বকাপজয়ী মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং রোহিত শর্মা। দু’জনেই টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছেন।
ফাইনাল ম্যাচে ভারতের দুর্ধর্ষ পারফরমেন্স!
শুরুটা খুব একটা ভালো করেনি ভারত। দ্বিতীয় ওভারেই বল করলেন ফিলিপ্স। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগে কখনও পাওয়ার প্লে-তে বল করেননি এই কিউয়ি অলরাউন্ডার।
পাঁচ ওভারের মধ্যে ৮টি ওয়াইড বল করে নিউজিল্যান্ডের! এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছিল, বিশ্বকাপ ফাইনালে কিউয়ি বোলারেরা কি চাপে?
শেষ পাওয়ার প্লে। এ বারের বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে এত রান করতে পারেনি কোনও দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুগ্ম সর্বোচ্চ রান। ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১ উইকেটে ৯২ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। ব্যাট করছেন সঞ্জু (৩৩) এবং অভিষেক (৫১)।
আরো পড়ুন: সঞ্জু আর অভিষেকের ঝোড়ো ইনিংসে ভারত পৌঁছে গেল ২৫৫-তে! নিউজিল্যান্ডের টার্গেট ২৫৬!
কিন্তু এরপর আউট হয়ে গেলেন অভিষেক। রাচিনের বল ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ আউট অভিষেক (২১ বলে ৫২)। ভারত ৯৮/১। ৬টি চার এবং ৩টি ছয় মেরেছেন অভিষেক।
১৪ ওভারে ভারত পৌঁছেছিল ১৯১/১।
ফাইনালে এসে অর্ধশতরান করলেন ঈশানও। অর্থাৎ ভারতের প্রথম তিন ব্যাটারই ৫০-এর গন্ডি পেরিয়ে গেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বার কোনও দলের প্রথম তিন ব্যাটার পরপর অর্ধশতরান করলেন।
টানা তৃতীয় ম্যাচে শতরানের দোরগোড়া থেকে ফিরলেন সঞ্জু। এই ম্যাচেও আউট হয়ে গেলেন ৮৯ রানে। নিশামের বলে তুলে খেলেছিলেন। সঞ্জুর ক্যাচ ধরলেন কোল ম্যাকঞ্চি।
নিশামের বলে চ্যাপম্যানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট ঈশান (২৫ বলে ৫৪) ভারত ২০৪/৩।
নিশামের বলে আউট হলেন সূর্যও (০)। দুরন্ত ক্যাচ নিলেন রাচিন। ১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে হঠাৎ চাপে ভারত। ১৬ ওভারে ২০৪/৪।
হেনরির বলে মারতে গিয়ে আউট হার্দিক (১৩ বলে ১৮)। বলের গতি বুঝতে না পেরে আউট। ভারত ২২৬/৫।
২০ ওভারে ভারত পৌঁছাল ২৫৫/৫-তে।
অপরাজিত থাকলেন তিলক (৮) এবং দুবে (২৬)। শেষ ওভারে ২৪ রান তুললেন দুবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তুলল ভারত।
আরো পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ হলেই অবসর নিয়ে নেবেন সূর্যকুমার কুমার যাদব! আদৌ কি এই খবর সত্যি?
ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স!
২৫৫ রানের লক্ষ্যকে পূর্ণ করতে গিয়ে প্রথমে একটু ঘাবড়েই যাই কিউয়িরা। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন ফিন অ্যালেন। লোপ্পা ক্যাচ ফেললেন দুবে। বলের নীচে হাতই নিয়ে যেতে পারেননি তিনি।
এরপর হার্দিকের প্রথম ওভারে ২১ রান তুলল নিউজিল্যান্ড। অক্ষরকে ছয় মারতে গিয়ে তিলকের হাতে ধরা পড়লেন অ্যালেন (৯)।
এরপর বুমরাহকে মারতে গিয়ে আউট রাচিন রবীন্দ্র (১)। দুরন্ত ক্যাচ নিলেন ঈশান। নিউজিল্যান্ড তখন ৩২/১।
পাওয়ার প্লে শেষ হয়। ১৪ ওভারে ২০৪ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের।
চাপের মুখে তখন লড়ছেন কেকেআরের কিউয়ি ব্যাটার সেইফার্ট। ২৩ বলে অর্ধশতরান করলেন তিনি। নিউজিল্যান্ড ৭ ওভারে তখন ৬৮/৩।
এরপর হার্দিকের বলে বোল্ড চ্যাপম্যান (৩)। বরুণের বলে ঈশানের হাতে ক্যাচ দিলেন সেইফার্ট (৫২)। অক্ষরের ফুলটস বলে ছয় মারতে গিয়ে লং অনে ঈশানের হাতে ধরা পড়লেন মিচেল (১৭)। এভাবে ১৫৯ রানেই শেষ নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। আর ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ট্রফি নিজের নামে করে নেয়।
ট্যাগ:
Souvik Das
editor


