বিশ্বকাপ জেতার পরে 'ছদ্মবেশ' ধারণ করে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরতে হল শিবম দুবেকে! কিন্তু কেন?
দুবের এই সিদ্ধান্ত শুনে পরিবারের সকলেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে সতর্কও করেছিলেন দুবেকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হতে না হতেই নিজের বাড়ি ফেরার তাড়াহুড়ো লাগে শিবম দুবের। নিজের চার বছরের ছেলে আয়ান আর দু’বছরের মেয়ে মেহউইশের কাছে দ্রুত ফিরতে চেয়েছিলেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রবিবার রাতে অহমদাবাদ থেকে মুম্বইয়ে ফেরার কোনও টিকিটই ছিল না। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই দুবে ঠিক করেন যে, ট্রেনে করেই বাড়ি ফিরবেন তিনি। আর যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। কিন্তু দুবৈ ছদ্মবেশ ধারণ করেই ট্রেন যাত্রা করেন। এবার নিজেই বললেন সেই কাহিনি।
আরো পড়ুন: সূর্যকুমার যাদবের পর কে হবেন ভারতের টি-২০ অধিনায়ক ? নামটা শুনলে আপনিও চমকে যাবেন!
কীভাবে 'ছদ্মবেশ' ধারণ করলেন শিবম দুবে?
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে নিজের বাড়ি ফেরার কাহিনি শুনিয়েছেন শিবম দুবে। আসলে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে অহমদাবাদে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী অঞ্জুম এবং এক বন্ধু। কিন্তু দুবের সন্তানেরা বাড়িতে ছিল।
সূত্রের খবর, এ প্রসঙ্গে দুবে বলেন, “কোনও বিমানে টিকিট ছিল না। তাই ঠিক করেছিলাম, সোমবার ভোরে অহমদাবাদ থেকে ট্রেনে মুম্বই ফিরব। সড়কপথেও ফিরতে পারতাম। তবে তাতে সময় বেশি লাগত।”
তাই অহমদাবাদ থেকে মুম্বই ট্রেনে ৬.৩০-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। সুতরাং, ট্রেনে ফেরারই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
আরো পড়ুন: পিচ নিয়ে বিতর্ক উঠতেই রেগে কাঁই গৌতম গম্ভীর, সমালোচকদের দিয়ে দিলেন 'মোক্ষম' জবাব!
দুবের এই সিদ্ধান্তে কী প্রতিক্রিয়া তাঁর পরিবারের?
দুবের এই সিদ্ধান্ত শুনে পরিবারের সকলেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অনেকে সতর্কও করেছিলেন দুবেকে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে ভারতীয় অলরাউন্ডার বলেন, “আমি, আমার স্ত্রী ও বন্ধু ঠিক করি ট্রেন ধরব। থার্ড এসি-র টিকিটও ছিল। তাই কেটে ফেলি। কিন্তু পরিবারের সকলে ও বন্ধুরা খুব চিন্তা করছিল। ওরা বার বার বলছিল, যদি কেউ স্টেশন বা ট্রেনে আমাকে চিনতে পেরে যায় তো কী হবে?”
দুবেও জানতেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিশ্বকাপ জিতে ও ভাবে ট্রেনে ফেরার পথে কেউ তাঁকে চিনতে পেরে গেলে সমস্যা হবে। তাই তাঁরা একটি পরিকল্পনা করেন। দুবে ঠিক করেন যে, ছদ্মবেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, “আমি টুপি ও মাস্ক পরেছিলাম। ফুলহাতা টি-শার্টও পরেছিলাম। ভোর ৫.১০ মিনিটের ট্রেন ছিল। ভেবেছিলাম প্ল্যাটফর্মে খুব একটা ভিড় হবে না।”
তিনি বলেন, “আমি অঞ্জুমকে বলেছিলাম, ট্রেনের ভিতরে গিয়ে বসতে। আমি গাড়িতেই অপেক্ষা করছিলাম। ট্রেন ছাড়ার ৫ মিনিট আগে গিয়ে উঠি।”
ট্রেনে উঠে উপরের বার্থে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন দুবে। কেউ তাঁকে দেখে চিনতে পারেননি।
ট্যাগ:


