নিউজ

‘নকভি অযোগ্য, অশিক্ষিত’, ভারতের কাছে লজ্জার হার হেরে পিসিবি সহ দলের খেলোয়াড়দের ধুয়ে দিলেন শোয়েব আখতার!

কলম্বোতে ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স ও বোর্ড পরিচালনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন শোয়েব আখতার। খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান মহসিন নকভি-র নেতৃত্ব—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এই পরাজয়ের পর সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়েও বড় চাপে পড়েছে পাকিস্তান।

Souvik Das
লিখেছেনSouvik Das
প্রকাশিত 4 মিনিট পড়া
Collected Image: INDvsPAK
Collected Image: INDvsPAK

কলম্বোতে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু মাঠের লড়াই একপাক্ষিক হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স ও বোর্ড পরিচালনা নিয়ে। ৬১ রানের ব্যবধানে ভারতের জয়ের পর প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করেন দল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্বের। তাঁর মন্তব্য ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল ভারত। ব্যাট হাতে আগ্রাসী সূচনা, মাঝের ওভারে গতি ধরে রাখা এবং শেষদিকে কার্যকর বোলিং—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত ক্রিকেট খেলেছে ভারতীয় দল। এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব চোখে পড়েছে। পাওয়ারপ্লেতে গতি না পাওয়া, মাঝের ওভারে চাপ বাড়াতে না পারা এবং লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পরিকল্পনার ঘাটতি—সব মিলিয়ে দল কখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে আসতে পারেনি।

আমাদের আপনার বিশ্বস্ত উৎস হিসাবে যোগ করুনআমাদের কভারেজ প্রথমে পেতে Google-এ Cricket Winner ফলো করুন।
★ Cricket Winner যোগ করুন

শোয়েব আখতারের কড়া প্রতিক্রিয়া!

ম্যাচ শেষে এবিপি নিউজে আলোচনার সময় শোয়েব আখতার বলেন, পাকিস্তান একবারের জন্যও লড়াইয়ে ছিল না। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন গতি, ফিটনেস ও মানসিক দৃঢ়তা।

তিনি বিশেষ করে বোলিং গতি ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ১৪০ কিমি বা তার বেশি গতিতে ধারাবাহিক বোলিং দেখা যায়, সেখানে গতি ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের অভাব পাকিস্তানকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মত তাঁর।

আরো পড়ুন: হ্যান্ডশেক বিতর্কের মাঝেই আক্রমকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলতে মজলেন হিটম্যান

বোর্ড পরিচালনা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন!

শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নেতৃত্ব নিয়েও সরব হন আখতার। বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নকভি-র প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ক্রিকেট পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য সম্ভব নয়।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গত কয়েক বছরে একাধিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে। নির্বাচক মণ্ডলী, অধিনায়কত্ব এবং কোচিং স্টাফ—সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আখতারের মন্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

নেতৃত্ব ও ব্যাটিং নিয়ে চলছে জোর সমালোচনা!

দলের সিনিয়র ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আখতার। নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বড় ম্যাচে চাপ সামলে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল হতে হলে কেবল ধারাবাহিক রান নয়, প্রভাবশালী ইনিংস প্রয়োজন—এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক নেতৃত্ব কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন অধিনায়কত্বে দলকে গুছিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বড় ম্যাচে কৌশলগত সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেটমহলে।

 সমর্থকদের হতাশা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া!

কলম্বোর ম্যাচের আগে পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাবের দেরা গাজি খান জেলায়ও ম্যাচ ঘিরে বিশেষ আয়োজন ছিল। কিন্তু বড় ব্যবধানে হারের পর সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ক্রিকেট পাকিস্তানে শুধু খেলা নয়, আবেগের অংশ। তাই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে হার মানে কেবল একটি ফলাফল নয়, জাতীয় গর্বের প্রশ্নও জড়িয়ে থাকে। এই কারণেই ম্যাচ-পরবর্তী সমালোচনা এতটা তীব্র হয়েছে।

 সুপার এইটের সমীকরণ কী বলছে?

এই পরাজয়ের ফলে সুপার এইটে ওঠার লড়াইয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়েছে। এখন তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে বড় জয় প্রয়োজন, পাশাপাশি অন্যান্য দলের ফলাফলের উপরও নির্ভর করতে হবে। টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্যায়েই এমন চাপ তৈরি হওয়ায় দলকে দ্রুত আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছোট ভুলও বড় ব্যবধানে প্রভাব ফেলে। তাই কৌশলগত শৃঙ্খলা, ফিল্ডিং মানোন্নয়ন এবং পাওয়ারপ্লে ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো এখন পাকিস্তানের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এখন সামনে পথ কী?

সমালোচনা ও আবেগের বাইরে গিয়ে বাস্তবতা হল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ঘরোয়া কাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রতিভা লালন-পালন অপরিহার্য। প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছ নির্বাচনী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শোয়েব আখতার-এর মন্তব্য হয়তো কঠোর, কিন্তু তা পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বড় আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই মূল্যবান। তাই আগামী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন পাকিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

আমাদের অনুসরণ করুন9M+ fans across platforms

লেখক সম্পর্কে

Souvik Das
লিখেছেন

Souvik Das

editor · 866 নিবন্ধ

বিগত ৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার সাথে লেখালেখি করেছি। কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই লেখালেখির দুনিয়ায় মূলত পা রাখা। ক্রিকেটের একজন অন্ধ ভক্ত। এর আগেও আমি বহু চ্যানেলে লেখালেখি করেছি। যেখানে প্রতিটি জায়গায় আমি আমার লেখা দিয়ে খেলাধুলার আবেগ, উত্তেজনা এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

“

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা আমার কাজ নয়

রোহিত শর্মা, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপা দেওয়া নিয়ে প্রশ্নে