ভারতের হারে বেজায় অখুশি সুনীল গাভাস্কার, পরের ম্যাচে অক্ষরকে নিতে বলে কাকে বাদ দিতে বললেন তিনি?
ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের স্পষ্ট কথা, "জিম্বাবোয়ে টিমে খুব বেশি বাঁহাতি ব্যাটার নেই। আর সেটাকে মাথায় রেখেই একাদশে আবার অক্ষরকে ফিরিয়ে আনা খুব দরকার। অর্শদীপ সিংয়ের জায়গায় ওকে খেলানো যেতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে কি ভারত সেমিফাইনালের রাস্তা অনেক কঠিন করে ফেলল? হ্যাঁ, এখন এই প্রশ্নই সবার মনে ঘোরাফেরা করছে। ওয়াশিংটন সুন্দরকে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে কেন খেলানো হল? আর কেনই বা একাদশে জায়গা পেলেন না অক্ষর প্যাটেলের মতো একজন দক্ষ বোলার? এই প্রশ্ন নিয়েও বেশ জলঘোলা চলছে। তবে এরই মধ্যে সুনীল গাভাসকরের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার বলে দিয়েছেন, অবিলম্বে অক্ষর প্যাটেলকে দলে ফেরাতে হবে। নইলে মহা চাপে পড়ে যাবে সূর্য বাহিনী। ভারতের পরের ম্যাচ আছে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। আর ওই ম্যাচে জিততে যেমন হবে ভারতকে, তেমনই রান রেটও বাড়াতে হবে। জয়ে ফেরা তো বটেই, শেষ চারের অঙ্ক পরিষ্কার করতে না পারলে ভীষণ চাপে পড়ে যাবে টিম ইন্ডিয়া।
কী বলছেন সুনীল গাভাস্কার?
ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের স্পষ্ট কথা, "জিম্বাবোয়ে টিমে খুব বেশি বাঁহাতি ব্যাটার নেই। আর সেটাকে মাথায় রেখেই একাদশে আবার অক্ষরকে ফিরিয়ে আনা খুব দরকার। অর্শদীপ সিংয়ের জায়গায় ওকে খেলানো যেতে পারে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অর্শদীপ এত দুর্দান্ত বোলিং করেছে যে, ওর মতো ছন্দে থাকা বোলারকে বাদ দেওয়া মোটেও ঠিক হবে না। ফলে, সুন্দর সে ক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারে। ওকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাত্র দু’ওভার বল করেছে। ব্যাট হাতে কিছুই করতে পারেনি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে চার ওভার বল করলেও উইকেট পায়নি। আমার মনে হয়, ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় নিশ্চিতভাবেই অক্ষর প্যাটেলকে খেলানো উচিত।"
আরো পড়ুন: এভাবে আইপিএল খেলতে চান না রোহিত শর্মা! মুম্বইকে আগেভাগেই সতর্ক করে দিলেন 'হিটম্যান'!
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টপ অর্ডার চরম ভাবে ব্যর্থ। এই ম্যাচে অভিষেক শর্মার মতো ক্রিকেটার মাত্র ১৫ রান করেছেন। ঈশান কিষান ০ করে ক্রিজে ফিরেছেন। এমনকি তিন নম্বরে নেমে তিলক ভার্মাও ২ বল খেলে ০ করে ফিরেছেন। আর তাই প্রশ্ন উঠছে, কেন তিলক ভার্মা ধরে খেললেন না?
এ প্রসঙ্গে গাভাস্কার বলেছেন, "তিলক স্মার্ট ব্যাটার। কিন্তু এই ম্যাচে ওর কাছে আরও বেশি কিছু আশা করেছিলাম। ঈশান প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যায়। তখন প্রয়োজনীয় রানরেট ছিল প্রায় ওভার প্রতি সাড়ে নয়ের মতো। ১৫ নয়। তিলকের ক্রিজে সময় কাটানো উচিত ছিল। অন্য প্রান্তে অভিষেক আগের দুটো ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছে। তাই দায়িত্ব ছিল তিলকের উপর। ক্রিজে টিকে থাকা, একটি জুটি গড়া এবং অন্তত প্রথম ছয় ওভার পার করে দেওয়া। সেটা করতে পারেনি। পাওয়ার প্লে-তে সব সময় ৭০ রান তুলতেই হবে, এমনটা নয়। ৫৫-৬০ রানও ভালো ভিত গড়ে দিতে পারত।"
অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকানদের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। সুনীল গাভাস্কারের কথায়, "ডেভিড মিলার আর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস একটা চমৎকার জুটি তৈরি করেছিল। ওরা ভারতের বোলারদের উইকেট নেওয়ার সব পরিকল্পনাই ভেস্তে দিয়েছে। ভারতের বোলাররা আশা করছিল, মিলার বা ব্রেভিস কোনও ভুল করে নিজেরাই উইকেট ছুঁড়ে দেবেন। কিন্তু তারা সেটা করেনি। হিসেবি কষে ঝুঁকি নিয়েছে। পাওয়ার প্লে-তে তিনটি উইকেট পড়ে গেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখেছিল। মিলারের গুজরাট টাইটান্সের হয়ে আমেদাবাদে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি কাজে লাগিয়েছে। আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে ব্রেভিস। মিলারের সঙ্গে ছক্কা মারার প্রতিযোগিতায় নামেনি। তরুণ ক্রিকেটাররা প্রায়ই সিনিয়রদের নকল করতে চায়। কিন্তু ব্রেভিস পরিণতবোধের পরিচয় দিয়েছে। এই জুটির কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫০-১৬০ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারেনি ভারত।"
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
যদিও, পরের ম্যাচে ভারতকে যে একেবারে দাঁতে দাঁত চিপে খেলতে হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা, ৭৬ রানের ব্যবধানে হেরে ভারতের সেমি ফাইনালের পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরো পড়ুন: তীরে এসে তরী ডুবতে চলেছে ভারতীয় দলের! বিশ্বকাপ থেকে ভারতের 'বিদায় ঘন্টা' প্রায় পাকা!
ট্যাগ:
Souvik Das
editor


