আগামী ১০০ বছরেও আইপিএলের এই বোলারের রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব!
এইক্ষেত্রে উইকেটের চেয়ে চার-ছক্কার সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই চার-ছক্কার খেলায় যদি বলা হয়, কোনও বোলার শেষ ওভারে অর্থাৎ ২০-তম ওভারেই প্রতিপক্ষের অর্ধেক দলকে কার্যত গুটিয়ে দিয়েছে—তাহলে তা বিশ্বাস করাও কঠিন।

টি-২০ ফরম্যাট শুরু হওয়ার পর থেকেই যেন বোলারদের জন্য সময়টা খুব কঠিন হয়ে গেছে। কারণ, টি-২০ ফরম্যাটে বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এইক্ষেত্রে উইকেটের চেয়ে চার-ছক্কার সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই চার-ছক্কার খেলায় যদি বলা হয়, কোনও বোলার শেষ ওভারে অর্থাৎ ২০-তম ওভারেই প্রতিপক্ষের অর্ধেক দলকে কার্যত গুটিয়ে দিয়েছে—তাহলে তা বিশ্বাস করাও কঠিন। ইনি এমনই এক বোলার, যিনি কখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি, কিন্তু একটি রেকর্ড গড়ে নিজের নাম চিরস্মরণীয় করে তুলেছেন। হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি। একজন বোলার এক ওভারেই ৫টি উইকেট নিয়েছিলেন, আর তাও আবার ম্যাচের ২০তম ওভারে! শুধু তাই নয়, এই বোলারের নাম তিন ফরম্যাটেই হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্বও রয়েছে। যদিও ভাগ্য যেন তাঁর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেছে। তাঁর কেরিয়ার থেমে যায় ৯টি মাত্র ম্যাচ খেলেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি খুব বেশি সুযোগও পাননি। তিনি হলেন অভিমন্যু মিথুন।
অভিমন্যু মিথুনের গগনচুম্বী রেকর্ড!
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসবে যে, কীভাবে অভিমন্যু মিথুন বোলার এক ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি হ্যাটট্রিকের পর হ্যাটট্রিক করার মতো অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন। তাঁর নামের পাশে ঘরোয়া ক্রিকেটের ৩টি ফরম্যাটেই হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব রয়েছে।
টি-২০ ফরম্যাটেই সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক রয়েছে:
টি-২০ ফরম্যাটে অভিমুন্য মিথুনের হ্যাটট্রিক সবচেয়ে বিশেষ, যেখানে তিনি এক ওভারেই ৫টি উইকেট নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মিথুন ভারতের হয়ে মাত্র ৪টি টেস্ট ও ৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে টেস্টে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৯টি উইকেট এবং ওয়ানডেতে ৫টি উইকেট।
আগামী ১০০ বছরেও কি অভিমুন্য মিথুনের এই রেকর্ড ভাঙতে পারবেন?
হ্যাঁ, ক্রিকেট ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত বড় পর্যায়ের ম্যাচে ৬ বলে ৬ উইকেট নেওয়ার কোনো কীর্তি দেখা যায়নি। তবে অভিমন্যু মিথুনের সেই ওভার দেখে মনে হয়েছিল, এবার হয়ত নতুন ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি-র সেমিফাইনালে তিনি এক ওভারে ৫ উইকেট নিয়ে নিজের নাম ইতিহাসে লিখে ফেলেন। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম চার বলেই তিনি হিমাংশু রানা, রাহুল তেওয়াটিয়া, সুমিত কুমার এবং অমিত মিশ্রাকে আউট করে দেন। এর পর একটি ওয়াইড বল সেই ধারাবাহিকতা থামায়। কিন্তু শেষ বলেও জয়ন্ত যাদবকে আউট করে তিনি কার্যত এই ঐতিহাসিক কীর্তি সম্পূর্ণ করেন।
এই অসাধারণ ঘটনা ২০১৯ সালে ঘটে। এর আগে ২০০৯ সালে রনজি ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচেই এবং ২০১৯ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতেও তিনি হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
আরো পড়ুন: কথা নয়, 'কাজ' করেই নির্বাচকদের জবাব দিলেন মহম্মদ শামি!


