নিউজ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় অঘটন, লঙ্কাকে হারিয়ে সুপার এইটে দুরন্ত জিম্বাবুয়ে!

কলম্বোর গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ বি ম্যাচে ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সুপার এইটে অপরাজিত অবস্থায় পৌঁছে গেল জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেটের অপরাজিত ইনিংস ও সিকান্দার রাজার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, আর ঘরের মাঠে হতাশ হতে হয় লঙ্কানদের।

Souvik Das
লিখেছেনSouvik Das
প্রকাশিত 4 মিনিট পড়া
 Collected Image - Zimbabwe
Collected Image - Zimbabwe

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ICC Men's T20 World Cup 2025–26-এর গ্রুপ বি-র ৩৮তম ম্যাচ। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ছিল Sri Lanka national cricket team এবং Zimbabwe national cricket team। ম্যাচটি ছিল গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দলই ইতোমধ্যে সুপার এইটে ওঠার দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল সবার আগে।

শ্রীলঙ্কা নিজেদের ঘরের মাঠে খেলছিল, ফলে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ছিল। ফলে ম্যাচটি কাগজে-কলমে সমান লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

শ্রীলঙ্কার ইনিংস: শক্ত ভিত, কিন্তু শেষদিকে খেল ধাক্কা!

আমাদের আপনার বিশ্বস্ত উৎস হিসাবে যোগ করুনআমাদের কভারেজ প্রথমে পেতে Google-এ Cricket Winner ফলো করুন।
★ Cricket Winner যোগ করুন

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল বড় স্কোর গড়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলা। ওপেনার Pathum Nissanka দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তিনি ৪১ বলে ৬২ রান করে দলের স্কোরকে স্থিতিশীল করেন। তার ইনিংসে ছিল নিয়ন্ত্রিত শট নির্বাচন এবং ইনিংস গড়ে তোলার মানসিকতা।

মধ্যক্রমে Pavan Rathnayake দ্রুতগতির ৪৪ রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে গতি আনেন। তবে অন্য ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ায় শেষ ৫ ওভারে প্রত্যাশিত রান তোলা যায়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ১৭৮/৭ — টি-টোয়েন্টি মানদণ্ডে প্রতিযোগিতামূলক স্কোর, কিন্তু একেবারে অপ্রতিরোধ্য নয়।

জিম্বাবুয়ের বোলাররা পরিকল্পনা মাফিক বল করেন। স্পিন ও পেসের মিশ্রণে তারা রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। মাঝের ওভারগুলোতে সঠিক লাইন-লেন্থ বজায় রাখায় শ্রীলঙ্কা বড় জুটি গড়তে পারেনি।

আরো পড়ুন: টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬: সুপার এইটে কারা উঠল, কীভাবে গড়ে উঠছে লড়াইয়ের নতুন সমীকরণ? রইল বিস্তারিত

জিম্বাবুয়ের রান তাড়া: ধৈর্য ও আক্রমণের মিশ্রণ দেখা গেল!

১৭৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সতর্ক ছিল জিম্বাবুয়ে। ওপেনিং জুটি দ্রুত উইকেট হারালেও মাঝের সারিতে দৃঢ়তা দেখান Brian Bennett। তিনি অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস খেলে পুরো রান তাড়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ইনিংস জুড়ে তিনি পরিস্থিতি বুঝে শট খেলেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাউন্ডারি আদায় করেন।

দলের অধিনায়ক Sikandar Raza ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত আসে যখন প্রয়োজনীয় রান রেট বাড়তে শুরু করে। সেই সময় রাজার আগ্রাসী ব্যাটিং শ্রীলঙ্কার বোলারদের চাপে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ করে জিম্বাবুয়ে।

এই জয়টি ছিল হিসেবি ও পরিপক্ব রান তাড়া করার উদাহরণ। দলটি কখনও আতঙ্কিত হয়নি, বরং ম্যাচকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়ে নিশ্চিতভাবে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কোথায়?

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ১৪ থেকে ১৭ ওভারের মধ্যে। তখন জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ছিল দ্রুত রান, আর শ্রীলঙ্কা খুঁজছিল উইকেট। সেই সময় সিকান্দার রাজার পরপর বাউন্ডারি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। একই সঙ্গে ব্রায়ান বেনেটের স্থির উপস্থিতি দলকে স্থিতি দেয়।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ইনিংসে শেষ তিন ওভারে প্রত্যাশার তুলনায় কম রান হওয়াও বড় পার্থক্য তৈরি করে। যদি তারা ১৯০-এর কাছাকাছি স্কোর তুলতে পারত, ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও কৌশলগত বিশ্লেষণ!

এই ম্যাচে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন সিকান্দার রাজা। তার অলরাউন্ড নেতৃত্ব ও ব্যাটিং দক্ষতা জিম্বাবুয়ের জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

কৌশলগতভাবে জিম্বাবুয়ে দেখিয়েছে কীভাবে লক্ষ্য তাড়া করতে হয়—উইকেট হাতে রেখে ইনিংস গড়ে তোলা, তারপর শেষ দিকে গতি বাড়ানো। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই পরিকল্পনাই প্রায়শই সফলতার চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।

আরো পড়ুন: পাক ক্রিকেটার ইমাদ ওয়াসিমের কেলেঙ্কারি ফাঁস, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল করে এ কোন কথা তুলে ধরলেন ইমাদের প্রাক্তন স্ত্রী?

সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বার্তা!

এই জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে গ্রুপ বি-তে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে প্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক সময় আন্ডারডগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই টুর্নামেন্টে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ধারাবাহিকতা, দলগত সমন্বয় এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা—এই তিনটি দিক তাদের সাফল্যের মূল।

শ্রীলঙ্কার জন্য এই হার আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। ঘরের মাঠে সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারায়। সুপার এইটে তাদের কৌশল আরও নিখুঁত করতে হবে।

কলম্বোর এই ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রোমাঞ্চ ও অনিশ্চয়তার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৭৮ রানের লক্ষ্য অতিক্রম করে জিম্বাবুয়ে দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও দল বড় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে।

আমাদের অনুসরণ করুন9M+ fans across platforms

লেখক সম্পর্কে

Souvik Das
লিখেছেন

Souvik Das

editor · 866 নিবন্ধ

বিগত ৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার সাথে লেখালেখি করেছি। কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই লেখালেখির দুনিয়ায় মূলত পা রাখা। ক্রিকেটের একজন অন্ধ ভক্ত। এর আগেও আমি বহু চ্যানেলে লেখালেখি করেছি। যেখানে প্রতিটি জায়গায় আমি আমার লেখা দিয়ে খেলাধুলার আবেগ, উত্তেজনা এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

“

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা আমার কাজ নয়

রোহিত শর্মা, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপা দেওয়া নিয়ে প্রশ্নে