ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জন্য ভারতীয় দলের এই ক্রিকেটার মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন!
ইংল্যান্ডে চলা মহিলা বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৭ উইকেটে জয়ে প্রসংশিত একাধিক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স। স্মৃতি মন্ধানার দুর্দান্ত অর্ধশতরান আর রিচা ঘোষের ম্যাচ জেতানো বিস্ফোরক ইনিংস এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বাদ যাননি ভারতীয় অলরাউন্ডার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। জানেন কি তাঁর জীবনের গল্প?

ইংল্যান্ডে চলা মহিলা বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৭ উইকেটে জয়ে প্রসংশিত একাধিক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স। স্মৃতি মন্ধানার দুর্দান্ত অর্ধশতরান আর রিচা ঘোষের ম্যাচ জেতানো বিস্ফোরক ইনিংস এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বাদ যাননি ভারতীয় অলরাউন্ডার শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন শ্রেয়াঙ্কা পাটিল!
ম্যাচের শুরুতে তাঁকে বোলিং আক্রমণে আনেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র তিন ওভারে ১৭ রান দিয়ে ভারতের হয়ে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিং স্পেল শ্রেয়াঙ্কা উপহার দেন। ভারতের ১৭০ রানের লক্ষ্য রক্ষায় তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শুধুমাত্র বোলিং নয়, ম্যাচে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে তাঁর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ক্যাচ।
মানসিক অবসাদের ক্রিকেট ছাড়তে চেয়েছিলেন শ্রেয়াঙ্কা!
যদিও মাঠের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে শ্রেয়াঙ্কার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ করেছেন শ্রেয়াঙ্কা। তিনি জাবলেননান, একটা সময় চোটের জন্য মানসিক অবসাদের শিকার হন তিনি। এমনকি ক্রিকেট দিতেও চান।
একের পর এক চোট সমস্যায় জেরবার হয়ে গিয়েছিলেন শ্রেয়াঙ্কা:
২০২৪ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে আঙুলে চোট পেয়ে শ্রেয়াঙ্কা ফ্র্যাকচারের শিকার হন। সেই চোটের জন্য প্রায় ১৪ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। পুনর্বাসনের সময় তাঁর গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় দুই পায়ের পেশিতে। একইসঙ্গে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলেও। একের পর এক চোট সমস্যা বড় ধাক্কার মুখে ফেলে দেয় তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারকে।
আরো পড়ুন: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে? আইনি নোটিস এল CAB-র তরফে!
চলতি বছরেই আরসিবি'র হয়ে মাঠে প্রত্যাবর্তন:
দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কাটিয়ে, কঠোর পরিশ্রমের করে এই বছরের প্রথমেই মহিলা প্রিমিয়ার লিগে আরসিবি'র হয়ে মাঠে নামেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারের কামব্যাকই নয়, মানসিক দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাসেরও উজ্জ্বল উদাহরণ।
শ্রেয়াঙ্কা জানান, “যদি আমি বলি যে, আমি অবসাদে ভুগিনি কিংবা ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করিনি, তাহলে তা মিথ্যা বলা হবে। চোটের শুরুতে ঠিক এমনই মনে হয় আমার। তবে আমার ভেতরে এক কণ্ঠস্বর ছিল, সেখানে বলছিল—যাই হয়ে যাক, এই খেলাটাকে আমি ভালোবাসি। এখানে শুধু আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি বলেই আছি।”
তিনি বলেন, কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার, বিশেষত বাবা, সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। পরিবারের সমর্থন আর ইতিবাচক পরিবেশ তাঁকে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য শক্তি জুগিয়েছে। ভারতীয় এই স্পিনার জানান, বরাবরই তিনি চাপের পরিস্থিতিতে বোলিং করতে পছন্দ করেন। পাওয়ার-প্লেতে বোলিং করতে ভালোবাসেন তিনি। তাইতো আজ চোট, হতাশা আর মানসিক লড়াইকে তুচ্ছ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
আরো পড়ুন: একেই বলে ভাগ্য, ইংল্যান্ডের হয়ে ২২ বছর বয়সে বিরাট সুযোগ পেয়ে গেলেন জেমস রিউ!
ট্যাগ:


