হোল্ডারের ক্যাচে 'ক্ষুব্ধ' কোহলিরা, আদৌ কি আউট ছিল? উঠছে বহু প্রশ্ন!
আমেদাবাদে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে জয়জয়াকার গুজরাত টাইটান্সের। তারপরেও শুধু জোর বিতর্ক একটি ক্যাচ নিয়ে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ম্যাচ অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কারপ্রাপ্ত জেসন হোল্ডারের একটি ক্যাচ নিয়ে। ওই ক্যাচ নিয়ে নাকি সন্তুষ্ট নন বিরাট কোহলিরা। জেসন হোল্ডারের নেওয়া যে ক্যাচে আউট হয়েছেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাটীদার, সেই নিয়েই বিতর্ক। কিন্তু কি এমন বিতর্কিত বিষয় রয়েছে সেই ক্যাচে?

হোল্ডারের ক্যাচের আগেই নাকি মাটি স্পর্শ করে বল, দাবি কোহলিদের!
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দাবি করেছে, হোল্ডার ক্যাচ ধরার পর বল নাকি মাটি স্পর্শ করেছিল। তারপরেই ক্যাচের বৈধতা নিয়ে জবাবদিহি চাইছে বেঙ্গালুরু শিবির। বাউন্ডারি লাইনের ধারে কোহলি এবং কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে কথা কাটাকাটি করতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে। কোহলিদের দাবি, হোল্ডার বল ধরলেও বলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাঁর। ক্যাচ সম্পূর্ণ হতে না হতেই মাটির স্পর্শ করেছিল বল। যদিও সেসব কথায় গুরুত্ব না দিয়ে আম্পায়ারেরা আউট দিয়ে দেন রজত পাটীদার-কে। বিষয়টি নিয়ে তৎক্ষণাৎ বিরক্তি প্রকাশ করেন কোহলি। তাই ম্যাচের পরও আলোচনায় হোল্ডারের বিতর্কিত ওই ক্যাচ।
ভুবনেশ্বর কুমারের মন্তব্য:
এ প্রসঙ্গে ভুবি জানান, "আমি সেখানে ছিলাম না। দূর থেকে মনে হল দূর থেকে দেখে মনে হল বলটি মাটি স্পর্শ করেছিল। কোহলি এবং ফ্লাওয়ারকে আম্পায়ারেরা কি যুক্তি দিয়েছেন আমি জানিনা। আমার শুধু চাইছিলাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার পূর্বে যেন আম্পায়ারেরা ক্যাচটির বিষয়ে ভালো করে খতিয়ে দেখে নেন।"
আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে বেঙ্গালুরুর জোরে বোলার অখুশি!
বিষয়টি নিয়ে সুর না চড়ালেও, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মোটেই খুশি নন বেঙ্গালুরুর জোরে বোলার। বিতর্কিত ক্যাচ নিয়ে সরকারি ভাবে আইপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির কাছে বেঙ্গালুরু শিবির অভিযোগ জানাতে পারে। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
হোল্ডারের বিতর্কিত ক্যাচটি প্রসঙ্গে সংশয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ:
হোল্ডারের বিতর্কিত ক্যাচটি প্রসঙ্গে সংশয় প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশও। ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া জানান, "আমি মনে করি এ বিষয়টি আম্পায়ারেরা ভাল করে বুঝবেন। ক্যাচ ধরার সময় হোল্ডারের নিয়ন্ত্রণে ছিল সবটা। তবে, ঝাঁপিয়ে পড়ে স্লাইড করার সময় পুরোটা নিয়ন্ত্রণে ছিল না তাঁর। আমি মনে করি, থেমে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়াতে বলের সাহায্য নিয়ে ক্যাচটা ধরা হবে। কারণ ক্যাচ ততক্ষণে সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু হাতে বল নিয়ে স্লাইডের বিষয়টা অন্যরকম। সবার মত আমিও একই দেখেছি। বল মাটির স্পর্শ করেছিল। হয়তো আউট ছিলেন না পাটীদার। যদিও তাঁকে আউট দিয়েছেন আম্পায়ারেরা।"
আরো পড়ুন: ভারতে খেলতে আসায় হল আসল ‘অপরাধ’? আইপিএল ২০২৬-এর মাঝে ৩ ক্রিকেটারকে সাসপেন্ড করল আফগানিস্তান!
কী বলছে ক্রিকেটের নিয়ম:
এমসিসির ক্রিকেট নিয়মাবলির ৩৩.৩ ধারা বলে, ‘‘যখন বল কোনও ফিল্ডারের শরীরে স্পর্শ করবে, ক্যাচ ধরার প্রক্রিয়া শুরু হবে সেই মুহূর্ত থেকে। যখন সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটার বল এবং নিজের শরীরের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবেন, তখন শেষ হবে ক্যাচ ধরার প্রক্রিয়া।"
আসলে,রাবাডা এবং হোল্ডার পাটীদারের মারা বলের পিছনে ছুটছিলেন। শেষে ক্যাচটি ধরে ফেলেন হোল্ডার। যদিও মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর মাটি স্পর্শ করে তাঁর হাতের বলটি। তাতেই ক্যাচের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঙ্গালুরু। চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন কোহলি নিজে। কোচ ফ্লাওয়ারও কথা বলেন। কিন্তু পাটীদারকে আউট দেন আম্পায়ারেরা।
আরো পড়ুন: লুকিয়ে লুকিয়ে সাজঘরে ধূমপান, ২৫ লাখ টাকা 'জরিমানা' দিতে হল রিয়ান পরাগকে!
ট্যাগ:


