রোমিলা থাপারের গবেষণার শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েই ছেলেকে 'খতরনাক' ক্রিকেটার বানালেন বাবা!
নিজে কখনও ক্রিকেট খেলেননি। ব্যাট অথবা বল হাতেও তুলে দেয়নি কোনদিন। কিন্তু ছেলেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের দেখতে চাওয়ার শব্দ নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাবা শশীকান্ত কুমার কুশাগ্র। ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের থেকে যে গবেষণার পদ্ধতি তিনি শিখেছিলেন, তাকে কাজে লাগিয়ে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের ছেলেকে তৈরি করেছেন তিনি।

নিজে কখনও ক্রিকেট খেলেননি। ব্যাট অথবা বল হাতেও তুলে দেয়নি কোনদিন। কিন্তু ছেলেকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের দেখতে চাওয়ার শব্দ নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাবা শশীকান্ত কুমার কুশাগ্র। ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের থেকে যে গবেষণার পদ্ধতি তিনি শিখেছিলেন, তাকে কাজে লাগিয়ে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের ছেলেকে তৈরি করেছেন তিনি। এবার নিউজিল্যান্ড সফরে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক দলে প্রথম বার শেষ দুটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন কুমার কুশাগ্র।
ক্রিকেটে ছেলের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেছিলেন বাবা শশীকান্ত!
ছোটবেলায় ক্রিকেটের এভাবে আগ্রহ ছিল না শশীকান্তের পুত্র কুমারের। তবে মহেন্দ্র সিং ধোনির সফলতা দেখে তাঁর বাবা জামশেদপুরে জিএসটি বিভাগের যুগ্ম কমিশনার শশীকান্ত ক্রিকেটে ছেলের সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে উপলব্ধি করেছিলেন। যেই ভাবা সেই কাজ। মাত্র ছয় বছর বয়সেই ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন ছেলেকে।
অ্যাকাডেমিতে নয়, বাবার থেকেই পেয়েছেন প্রশিক্ষণ!
কোনও ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি না করে নিজেই ছেলের কোচ হয়ে ওঠেন শশীকান্ত। ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা না থাকলেও বব উলমার ও ডন ব্র্যাডম্যানের লেখা বই পড়ে ব্যাটিংয়ের কৌশল শেখেন। প্রতিটি শট কীভাবে খেলতে হয়, হাত ও কবজির অবস্থান কেমন হবে, তা লিখে রেখে ছেলেকে অনুশীলন করাতেন।
রোমিলা থাপারের গবেষণা থেকে শিক্ষা কাজে লাগল ক্রিকেটে:
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে শশীকান্ত তাঁর স্নাতকোত্তর পড়ার সময় ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপারের থেকে গবেষণার গুরুত্ব আয়ত্ত করেছিলেন। ক্রিকেটে সেই পদ্ধতিই প্রয়োগ করেন তিনি। কোন কৌশল কাজে লাগতে পারে কিংবা কিভাবে ব্যাট ধরতে হয়, এমনকি শট খেলার সময় শরীরের অবস্থান কিভাবে থাকবে, সেই প্রত্যেকটা ব্যাপার বিশ্লেষণ করে ছেলেকে প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। ছেলেকে ক্রিকেটের কৌশল শেখাতেন রাহুল দ্রাবিড় আর বীরেন্দ্র শেহবাগের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখে।
ঝাড়খণ্ড থেকে কুমার কুশাগ্র জায়গা পেলেন ভারতীয় দলে:
এরপর ধাপে ধাপে এগিয়েছে কুমারের ক্রিকেটজীবন। বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে তিনি যথেষ্ট নজর করেছেন। ২০২৪ সালে ২০২৪ সালে ভারতীয় 'এ' দলে তিনি সুযোগ পান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলামে তাঁকে ৭.২ কোটি টাকায় দিল্লি ক্যাপিটালস দলে নিয়েছিল। পরবর্তীকালে ৬৫ লক্ষ টাকায় গুজরাট টাইটান্স দলে নেয় তাঁকে।
ক্রিকেটে ছেলের ভয় দূর করতে মাত্র ১২ বছর বয়সেই রঞ্জি ক্রিকেটারদের সাথে ছেলেকে উইকেটকিপিংয়ের অনুশীলনও করিয়েছিলেন বাবা শশীকান্ত। প্রথমদিকে ক্রিকেটে সেভাবে আগ্রহ ছিল না তাঁর। তবে পরবর্তীতে কুমার ক্রিকেটার প্রতি মনোযোগী হন। দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ভারতীয় দলে এবার সুযোগ পেয়ে তিনি বাবার স্বপ্নপূরণের পথে আরও একটি ধাপ এগিয়ে গেছেন।
আরো পড়ুন: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের 'ধোনি' হবেন হরমনপ্রীত? কী জানালেন বিসিসিআই সভাপতি?




