যে প্রতিভাকে এতদিন গম্ভীররা চিনতেই পারেননি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই নামান ধীরই হয়ে উঠলেন ভারতের সবচেয়ে ধারালো 'অস্ত্র'!
ভারতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। বিশেষ করে ক্রিকেটের জগতে। অন্যান্য খেলার থেকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা যে এই দেশ একটু হলেও বেশি তা হয়ত আর নতুন করে বলার দরকার পড়বে না। আর এবার টিম ইন্ডিয়ায় যে প্রতিভা সবার নজর কেড়েছেন তিনি হলেন নামান ধীর।

ভারতে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। বিশেষ করে ক্রিকেটের জগতে। অন্যান্য খেলার থেকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা যে এই দেশ একটু হলেও বেশি তা হয়ত আর নতুন করে বলার দরকার পড়বে না। আর এবার টিম ইন্ডিয়ায় যে প্রতিভা সবার নজর কেড়েছেন তিনি হলেন নামান ধীর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজে একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্সের মধ্যে দিয়ে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছেন নামান। ব্যাট হাতে একেবারে বিধ্বংসী ছক্কা হাঁকানো থেকে শুরু করে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়া, সব কিছুতেই কার্যত বাজিমাত করেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। এতদিন যাবৎ তাঁর ব্যাটিংয়ের কথাই অধিক আলোচিত হত। কিন্তু এই সিরিজে তিনি প্রমাণ করে দিলেন যে, প্রয়োজনে বল হাতেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি। আর, ভারতীয় দলের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে এটাই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
মাত্র ৬ বলে ২৪ রান! ব্যাট হাতে ঝড় তুলে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিলেন নামান ধীর!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারত যখন অত্যন্ত চাপে, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে ক্রিজে নামেন নামান ধীর। মাত্র ৯ ওভারের ম্যাচে ৮৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়েছিল ভারত। সেই পরিস্থিতিতে শিবম দুবের আগে নামানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হয়েছিল, তা সবাইকে বুঝিয়ে দেন তিনি নিজেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিরুদ্ধে পরপর তিন-তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে মাত্র ৬ বলে ২৪ রান করেন নামান। তাঁর আগ্ৰাসী ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, শক্তি এবং পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত রান তোলার অসাধারণ ক্ষমতা। বিশেষত ঘণ্টায় ১৩৭ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতির বলও যেভাবে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন তিনি, তা ভারতীয় দলের জন্য সত্যিই আশার খবর।
শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতেও প্রতিপক্ষকে ভয় ধরিয়েছেন নামান!
নামানকে এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণীয় আবিষ্কার করে তুলেছে তাঁর 'জাদুকরি' অফ স্পিন। প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা যখন বড় শট খেলে চাপ তৈরি করতে চেয়েছেন, ঠিক তখনই নিজের স্নায়ুর উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে পাল্টা আঘাত হেনেছেন নামান।
টি-২০ সিরিজে তাঁর ঝুলিতে এসেছে পাঁচটি উইকেট। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ছক্কা হজম করার পরও পরের বলেই পাঁচবার উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, ব্যাটারদের আক্রমণে ভেঙে না পড়ে কীভাবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তার পরিচয় কার্যত দিয়ে দিয়েছেন নামান।
নামানেল প্রশংসায় মজেন ড্যারেন স্যামি:
নামানের বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তাঁর বলের গতির পরিবর্তন। কখনও ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের সামান্য বেশি, আবার কখনও ৯০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিতে বল করে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত বারংবার করেছেন তিনি। বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটারদের বিরুদ্ধে তাঁর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত কার্যকর।
তাই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারেন স্যামিও নামানের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। ভালো ব্যাটিং উইকেটে অযথা রান না দিয়ে ডট বল তৈরি করার যথেষ্ট গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। নামানের ডট বলের হার ছিল ৩৫ শতাংশ, যা তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং ধৈর্যের পরিচয় দেয়।
ভারতের ভবিষ্যতের জন্য বড় 'অস্ত্র' হতে পারেন নামান!
ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের নিম্ন-মধ্যক্রমে আরও শক্তি যোগ করার ক্ষমতা রয়েছে নামান ধীরের। একইসঙ্গে অফ স্পিন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিতে পারলে দলের ভারসাম্যও অনেকটা বাড়বে। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নামান নিজেও জানিয়েছেন যে, তিনি একজন প্রকৃত অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে চান। তবে আপাতত ব্যাট হাতে আরও বেশি রান করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
সুতরাং, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দেখিয়ে দিল, নামান ধীরের মধ্যে শুধু বড় শট খেলার ক্ষমতাই নেই, রয়েছে চাপ সামলে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার মানসিকতাও। এখন দেখার বিষয়, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে ভারতীয় দলের স্থায়ী সদস্য হয়ে উঠতে পারেন কি না।
আরো পড়ুন: জাসপ্রীত বুমরা বাদ! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ান ডে সিরিজে নামই নেই জাসপ্রীত বুমরার!