CSK vs MI Highlights: ১৩ জন খেলিয়েও লাভের লাভ কিছু হল না, সঞ্জুর শতরানেই জয় হাসিল করল!
চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচ হাইলাইটস।

প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২০৭ রান করে ফেলেছিল চেন্নাই। ৫৪ বলেই ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন সঞ্জু স্যামসন। আর তার জবাব দিতে পারলেন না মুম্বইয়ের কোনও ব্যাটারই। আকিল ৪ ও নুর ২ উইকেট নিলেন। তাঁদের সামনে অসহায় দেখাল হার্দিক পান্ডেয়া, সূর্যকুমার যাদবদের।
আজকের ম্যাচে সকলের নজর ছিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ও রোহিত শর্মার উপর!
হ্যাঁ, আজকের ম্যাচে সবার নজর ধোনি-রোহিতের উপরেই ছিল। কিন্তু খেলার আগেই জানা যায়, ধোনি দলের সঙ্গে মাঠে আসেননি। তখনই বোঝা গিয়েছিল, তিনি খেলবেন না। টসের পর জানা গেল, রোহিতও দলে নেই। আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বার মুম্বই-চেন্নাই লড়াইয়ে দেখা গেল না ধোনি, আর না রোহিতকে। তাঁদের ছেড়ে যাওয়া মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেন সঞ্জু ও আকিল।
শুরু থেকেই ভালো পারফর্ম করে চেন্নাই!
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন হার্দিক পাণ্ডেয়া। চেন্নাই জানত, এই উইকেটে লড়াইয়ে থাকতে হলে অন্তত ২০০ রানের বেশি করতে হবে। শুরুটাও সে ভাবেই করেছিল তারা। অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে তাঁকে ফেরান আল্লা গজনফর। ১৪ বলে ২২ রান করেন চেন্নাইয়ের অধিনায়ক।
আর ঋতুরাজ আউট হওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়ান সঞ্জু। তিনি পাশে পান সরফরাজ খানকে। তবে সরফরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৮ বলে ১৪ রান করে আউট হন তিনি। ২ উইকেট পড়ে গেলেও চেন্নাইয়ের প্রথম তিন ব্যাটারের কাঁধে ভর করে পাওয়ার প্লে-তে রান হয় ৭৩।
পাওয়ার প্লে-র পরেও রান তোলার গতি কমতে দেননি সঞ্জু। চেন্নাইয়ের হয়ে প্রথম কয়েকটি ম্যাচ বাদ দিলে ছন্দে তিনি। শুরু থেকে ভরসা দেখাচ্ছেন। শিবম দুবে অবশ্য এই ম্যাচে রান পাননি। ৮ বলে ৫ রান করে গজনফরকে ছক্কা মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান।
এরপর সঞ্জুকে সঙ্গ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার শুরু থেকে হাত খুলতে থাকেন। তার মাঝেই আরও একটি অর্ধশতরান করেন সঞ্জু। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল যে, প্রায় ২২০-২৩০ রান হবে। কিন্তু অশ্বনী কুমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন ব্রেভিস। ১১ বলে ২১ রান করেন তিনি। তরুণ কার্তিক শর্মা করেন ১৯ বলে ১৮ রান। তবে দু’টি দর্শনীয় ছক্কা মারেন তিনি।
সেঞ্চুরি করেন সঞ্জু স্যামসন:
শেষ দিকে কার্যত রান তোলার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেন সঞ্জু। দৌড়ে রান নিচ্ছিলেন না। খালি বড় শট মারার চেষ্টা করছিলেন। তাতে সফলও হন তিনি। ৫৪ বলে শতরান করেন সঞ্জু। শেষ পর্যন্ত ৫৪ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন। পুরো ২০ ওভার খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে চেন্নাই।
টসের পর রুতুরাজ জানিয়েছিলেন, দলে ফিরেছেন প্রশান্ত বীর। তাঁকেই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামানো হত। কিন্তু চেন্নাইয়ের ব্যাটিং ভালো হওয়ায় সিদ্ধান্ত বদল করেন প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং। ম্যাট হেনরিকেও নামাননি তিনি। মুম্বইয়ের স্পিনার গজ়নফর ভাল বল করায় তিনিও বাঁহাতি স্পিনার আকিলকে নামিয়ে দেন। সেই সিদ্ধান্তই নির্ণায়ক হয়ে দাঁড়ায়।
আরো পড়ুন: Sanju Samson: সঞ্জু স্যামসন 'রুদ্রমূর্তি' ধরা পড়ল, অপরাজিত থেকে আজকেও করলেন ১০১!
মুম্বইয়ের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার প্রভাব ফেলতে পারেননি!
আকিলের প্রথম বলেই আউট হন দানিশ মালেওয়ার। ফর্মে থাকা নমন ধীরকেও শূন্য রানে ফেরান আকিল। মুম্বইয়ের আর এক ওপেনার কুইন্টন ডি’কককে ৭ রানের মাথায় আউট করেন মুকেশ চৌধরী। ১১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায় মুম্বইয়ের। পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ২৯ রান হয়। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে মুম্বই। আর ফিরতে পারেনি তারা।
সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মা জুটি বাঁধেন:
শুরুতে ধীরে খেলছিলেন তাঁরা। কিন্তু সপ্তম ওভারের পর থেকে হাত খোলা শুরু করেন তাঁরা। পরের তিন ওভারে ভাল রান হয়। দেখে মনে হচ্ছিল, আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শুরুটা দেখে তার পর বিধ্বংসী ইনিংস খেলবেন তিলক। কিন্তু তখনই দেখা গেল আকিলের জাদু। ২৯ বলে ৩৭ রান করে আকিলের বলে বোল্ড হন তিলক। তাই শেষমেষ চেন্নাইয়ের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় মুম্বই। ১০৩ রানে হারতে হয় মুম্বইকে।
আরো পড়ুন: বুমরাহকে নিয়ে ঠিক কী করতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? খোলসা হয়ে গেল বড় সত্য...!
ট্যাগ:


