কিং কোহলির ঝোড়ো সেঞ্চুরিতেই কি অনিশ্চিত কলকাতা নাইট রাইডার্সের 'প্লেঅফ স্বপ্ন'?
আইপিএলে টানা চার চারটি ম্যাচ জয়, তারপরেই হারের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কেকেআরের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন সেই হারের ধাক্কায় বিধ্বস্ত। অন্যদিকে, বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় জয় তুলে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।প্লে-অফের খুব কাছে পৌঁছে গেল দল। তাহলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভবিষ্যৎ কী?

আইপিএলে টানা চার চারটি ম্যাচ জয়, তারপরেই হারের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কেকেআরের প্লে-অফের স্বপ্ন এখন সেই হারের ধাক্কায় বিধ্বস্ত। অন্যদিকে, বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় জয় তুলে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।প্লে-অফের খুব কাছে পৌঁছে গেল দল।
দূরন্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচের রাজা বিরাট কোহলি!
কলকাতার দেওয়া ১৯৩ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে, ৫টি বল বাকি থাকতে থাকতেই বেঙ্গালুরু ৬ উইকেটে জিতে নেয়। সেই জয়ের নায়ক হলেন, বিরাট কোহলি। তিনি এদিন ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। আইপিএল কেরিয়ারে এটাই ছিল কোহলির নয় নম্বর সেঞ্চুরি।
টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিং করতে নামে আরসিবি। শুরুর দিকে একেবারেই ভালো হয়নি কেকেআরের। অজিঙ্কা রাহানে করেন ১৯ রান এবং ফিন অ্যালেন মাত্র ১৮ রান করেই তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যান। তারপরেই মহা চাপে পড়ে যায় কেকেআর। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ফেরানোর চেষ্টা করেন তরুণ ব্যাটার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী।
অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর পারফরমেন্স:
ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে প্রথমে ৬৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এরপর রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে ৭৬ রানের দারুণ পার্টনারশিপ গড়ে লড়াইয়ের জায়গায় কেকেআরকে পৌঁছে দেন তিনি। গ্রিন ৩২ রান করেন। ২৯ বলে ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে রিঙ্কু সিং অপরাজিত থাকেন।
এদিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। শুরুটা ধীরে করলেও একটার পর একটা দুর্দান্ত শটে মাঠে ঝড় তোলেন। তাঁর পরিণত ব্যাটিংয়ে এই তরুণ তরুণ ডানহাতি ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন। তিনি এদিন ৪৬ বলে ৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ৭টি চার ও ৩টি ছয় ছিল তাঁর ইনিংসে। ইনিংসের শেষ বলে রঘুবংশী রান আউট হয়ে যান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট খুইয়ে কেকেআর ১৯২ রান করে।
কোহলি ও জেকব বেথেল জুটির পারফরমেন্স:
জবাবে কোহলি ও জেকব বেথেল ব্যাট করতে নেমে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলছিলেন। এই ওপেনিং জুটি ৩৭ রান করে। তারপর দেবদূত পাড়িক্কলের সাথে বিরাটের ৯২ রানের জুটি ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। ৩৯ রান করে পাড়িক্কল আউট হন। নিজের ছন্দে খেলতে থাকেন কোহলি।
হাফ সেঞ্চুরির পর কোহলির আগ্রাসী পারফরমেন্স:
হাফ সেঞ্চুরির পরে কোহলি যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। রজত পাতিদার ও টিম ডেভিডকে তাড়াতাড়ি ফিরতে হয়। তবে এদিন যেন থামতেই চাইছিলেন না কোহলি। কেকেআরের বোলারদের চোখে চোখ রেখে মাত্র ৫৮ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষে ১৯.১ ওভারেই জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে ফেলে আরসিবি। ১০৫ রানে কোহলি অপরাজিত থাকেন। ৮ রানে অপরাজিত থাকেন জিতেশ শর্মা।
আরসিবির এই জয়ের জন্য ১২ ম্যাচে ৮টি জয়, সঙ্গে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের একেবারে প্রথমে উঠে এল। আরসিবির প্লে-অফ নিশ্চিত প্রায়। আর মাত্র একটি জয় পেলেই শেষ চার নিশ্চিত হবে।
প্লে-অফের রাস্তা বেশ কঠিন কেকেআরের জন্য!
এদিকে কেকেআরের পরিস্থিতি বেশ কঠিন। এই হারের কারণে ১২ ম্যাচে কেকেআরের পয়েন্ট ৯। বাকি তিন ম্যাচে জয়লাভ করলেও সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্টে তারা পৌঁছতে পারবে। তাই প্লে-অফে যেতে নিজেদের জয়ের সঙ্গে, অন্য দলের ফলাফলে নজর দিতে হবে কেকেআরকে। তবে কেকেআরের জন্য এটা বেশ কঠিন।
আরো পড়ুন: এ কি, মরন-বাঁচন ম্যাচে বিরাট শাস্তির মুখে পড়লেন অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল!
ট্যাগ:


