বিরল রোগে আক্রান্ত বিরাট কোহলি, ঠিক কতটা ভয়াবহ এই রোগ?
বিরাট কোহলি, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান তিনি। মাঠে তাঁর আগ্রাসী খেলা, বড় বড় রান তোলা, একের পর এক রেকর্ড তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এবার বিরাট কোহলি জানালেন, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা সময়ে তিনি ভয়, আত্ম সন্দেহ আর মানসিক ক্লান্তিতে ভুগেছেন। কখনো কখনো তিনি নিজেকে অতটাও যোগ্য বলে মনে করেনি। নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করার এমন মানসিক সমস্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বেঙ্গালুর এক ক্রীড়া সম্মেলনে। কী এমন বলেছিলেন তিনি?

বিরাট কোহলি, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান তিনি। মাঠে তাঁর আগ্রাসী খেলা, বড় বড় রান তোলা, একের পর এক রেকর্ড তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এবার বিরাট কোহলি জানালেন, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা সময়ে তিনি ভয়, আত্ম সন্দেহ আর মানসিক ক্লান্তিতে ভুগেছেন। কখনো কখনো তিনি নিজেকে অতটাও যোগ্য বলে মনে করেনি। নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করার এমন মানসিক সমস্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বেঙ্গালুর এক ক্রীড়া সম্মেলনে।
জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও করেছেন মানসিক ক্লান্তির সঙ্গে!
কোহলি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় দলে অধিনায়কত্ব করতে গিয়ে মানসিকভাবে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করলেও খেলার আনন্দ হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। এমন কঠিন সময়ে প্রাক্তন ভারতীয় কোচ রাহুল দ্রাবিড় আর ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। তাঁরা শুধু ক্রিকেটার হিসেবে নয় মানুষ হিসেবেও কোহলিকে সামলেছেন।
কী বলছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা?
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন মানসিক অবস্থায় নিজের সাফল্যকেও মানুষ বিশ্বাস করতে পারে না। অনেক সাফল্য প্রশংসা বা স্বীকৃতি পেলেও, সবটাই ভাগ্যের জোরে এসেছে বলে মনে হয়। এক অদ্ভুত ভয় কাজ করে মনে, একদিন একদিন সবাই বুঝতে পারবে যে তিনি অতটা যোগ্য নন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বাসের অভাব আর এমন মানসিক সমস্যা এক নয়। আত্মবিশ্বাসের অভাব হলে নিজের দক্ষতা নিয়ে সন্দিহান থাকেন মানুষ। কিন্তু এই ধরনের মানসিক সমস্যায়, অনেক বড় সাফল্য অর্জন করলেও নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করেন। এই সময় মানুষ নিজস্ব অর্জনকে ছোট করে দেখার পাশাপাশি, অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন এবং মনে অপরাধবোধ কাজ করে।
আরো পড়ুন: সমস্যার শেষ হচ্ছে না চেন্নাইয়ের, কোনোমতেই দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না কোনো কোচ!
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তারকাদের মধ্যেও চাপ:
চিকিৎসকরা বলেন, এমন মানসিক চাপ শুধু সাধারণ মানুষ নয়, তারকা ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা অভিনেত্রী, বড় প্রতিষ্ঠানের সফল ব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষণীয়। সাফল্যের সঙ্গে নিজের প্রতি প্রত্যাশা, সমালোচনার ভীতি, আর সব সময় নিজেকে নিখুঁত দেখানোর অদৃশ্য চাপ কাজ করে।
যদি দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় থাকা মানেই উদ্বেগ, মানসিক অবসাদ, অনিদ্রা আর আত্মবিশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এতে কাজের দক্ষতাও কমে যায়। নতুন দায়িত্বভার সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে মনে মনে নিজেকে অযোগ্য বলে মনে করতেও পারেন।
মনোবিদদের পরামর্শ:
মনোবিদরা পরামর্শ দেন, এমন ধরনের অনুভূতিকে অস্বীকার আপনার পরিবর্তে স্বীকার করে নেওয়াটাই উচিত। নিজের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অকারণে নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা এড়িয়ে চলতে হবে। কথা বলতে হবে কাছের মানুষদের সাথে। ভুল করলে এটা শেখার অংশ হিসেবে মেনে নিয়ে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে হবে। এমনকি এক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও যায়। সাফল্যের আড়ালে যে গভীর মানসিক লড়াই চলে, সেকথা বিরাটের স্বীকারোক্তি থেকেই স্পষ্ট।
আরো পড়ুন: বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা এই 'থ্রিডি' ক্রিকেটার নিস্তব্ধে 'বিদায়' নিয়ে নিলেন!
ট্যাগ:


