পাকিস্তানের মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে রেকর্ড গড়লেন ভারতীয় মহিলারা!
মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপে বিরাট জয় দিয়েই অভিযান শুরু ভারতের। বার্মিংহামের এজবাস্টনে ৬৪ রানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। একদিকে ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানা আর রিচা ঘোষের ঝোড়ো ইনিংস, অন্যদিকে বল হাতে দীপ্তি শর্মার বিধ্বংসী স্পেল ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে ছিটকে দিল এদিন। কেমন ছিল এদিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচ?

মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপে বিরাট জয় দিয়েই অভিযান শুরু ভারতের। বার্মিংহামের এজবাস্টনে ৬৪ রানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে শক্তিশালী বার্তা দিল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। একদিকে ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানা আর রিচা ঘোষের ঝোড়ো ইনিংস, অন্যদিকে বল হাতে দীপ্তি শর্মার বিধ্বংসী স্পেল ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে ছিটকে দিল এদিন।
১৭ অভাবে অলআউট পাকিস্তান!
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ১৭০ রান তোলে। জবাব দিতে মাঠে নেমে পাকিস্তান মাত্র ১৭ ওভারে ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শেফালি বর্মা আর জেমাইমা রদ্রিগেজ!
টসে জিতে প্রথমে ভারত ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমেই সাদিয়া ইকবালের প্রথম বল শেফালি বর্মা ছক্কায় উড়িয়ে দেন। যদিও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি তিনি। মাত্র ৬ রান করেই আউট হয়ে যান এই ভারতীয় ওপেনার। তারপর জেমাইমা রদ্রিগেজ মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় ভারত।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মন্ধানা আর অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর:
এই পরিস্থিতিতে স্মৃতি মন্ধানা আর অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ম্যাচ সামাল দেন। তিন উইকেটে ৯১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তাঁরা দুজনে। অসাধারণ ব্যাটিং করে স্মৃতি ৪৪ বলে ৬৮ রান তোলেন। একাধিক চমৎকার বাউন্ডারি ছিল তাঁর ইনিংসে। ৩৬ রানের বড় অবদান রাখেন হরমনপ্রীতও।
রিচা ঘোষের দুর্দান্ত ইনিংস:
শেষ দিকে মাঠে ঝড় তোলেন বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটার রিচা ঘোষ। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ১৭০-এ পৌঁছে দেন ভারতের স্কোর।
সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর গড়ল পাকিস্তান:
পাকিস্তান ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথমটা ভালোই করে। এমনকি পাওয়ার প্লের মধ্যে ৫২ রান তুলে নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে তারা নিজেদের সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর গড়ে। দ্রুত রান তুলছিলেন মুনিবা আলি আর গুল ফিরোজা।
দিশেহারা পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ:
যদিও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন টিম ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ স্পিনার দীপ্তি শর্মা। ফিরোজাকে প্রথমেই আউট করে পাকিস্তানকে এগিয়ে যাওয়া থেকে রুখে দেন তিনি। তারপর আয়েশা জাফরকেও ফিরিয়ে দেন দীপ্তি। পাওয়ার প্লের পর শ্রেয়াঙ্কা পাটিল দীপ্তি, ও শ্রী চরণির ঘূর্ণিতে রীতিমত দিশেহারা হয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
আরো পড়ুন: পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের এই ‘লেডি শেহওয়াগ’ যা ঘটালেন তা ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা থাকবে!
মুনিবা আলির ফিরে যাওয়ার বিধ্বস্থ পাকিস্তান:
৪১ রান করে মুনিবা আলি কিছুটা লড়াই করলেও, দীপ্তির দুরন্ত থ্রোয়ে তিনি রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তাঁর যাওয়ার পরই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ। সাইরা জাবিন, নাতালিয়া পারভেজ বা অধিনায়ক ফাতিমা বড় ইনিংস খেলতে পারলেননা কেউই।
১৭ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট পাকিস্তান:
চার ওভারে দীপ্তি শর্মা ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিলেন এদিন। অন্যদিকে চার ওভারে ২১ রান দিয়ে শ্রী চরণি ৩ উইকেট তোলেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়েছেন শেফালি বর্মাও। অবশেষে ১৭ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট পাকিস্তান। তাই ৬৪ রানের বিরাট জয় নিয়ে এদিন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত।
জয়ের মধ্যেও উদ্বেগে টিম ইন্ডিয়া:
যদিও জয়ের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে ভারতীয় শিবিরে। প্রত্যাশামতো বোলিং করতে ব্যর্থ হয়েছেন পেসার অরুন্ধতী রেড্ডি আর ক্রান্তি গৌড়। পাশাপাশি উইকেটের পিছনে নজরে পড়েছে রিচা ঘোষের কয়েকটি ভুল। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়লাভ করায় উত্তেজনায় ভরপুর ভারতীয় শিবির।
ট্যাগ:


