সন্তান জন্ম দিলে কি আর মহিলাদের ক্রিকেট খেলা যাবে না? জয় শাহ বলে দিলেন বড় কথা...!
মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য ‘প্রসব-পরবর্তী খেলায় ফেরা’ নির্দেশিকা চালু করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নিরাপদ এবং পরিকল্পিতভাবে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কামব্যাক করতে সহায়তা করার লক্ষ্যে নতুন নিয়ম চালু হল। কী রয়েছে এই নিয়মে?

মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য ‘প্রসব-পরবর্তী খেলায় ফেরা’ নির্দেশিকা চালু করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নিরাপদ এবং পরিকল্পিতভাবে মহিলা ক্রিকেটারদের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কামব্যাক করতে সহায়তা করার লক্ষ্যে নতুন নিয়ম চালু হল।
মাতৃত্বের পাশাপাশি ক্রিকেট ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চান মহিলা ক্রিকেটাররা!
মহিলা ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির সাথে মাতৃত্বের পাশাপাশি নিজেদের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন বহু মহিলা ক্রিকেটার। এই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও সহায়তা ব্যবস্থাকে আইসিসি আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।
কী বলছেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ?
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ জানান, মহিলা ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়নের জন্যই এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে পরিবার ও পেশার মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের বাধ্য করা হবে না। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “মহিলা ক্রিকেটের ধারাবাহিক অগ্রগতি সুযোগ, অন্তর্ভুক্তি আর খেলোয়াড়দের প্রতি যত্নের ভিত্তির ওপর থাকা উচিত। কোনো খেলোয়াড়কেই মাতৃত্ব আর দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, মহিলা ক্রিকেটে আরও সহায়ক, নিরাপদ আর তথ্যভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ আইসিসির নতুন এই নির্দেশিকা।
‘৬ আর’ মডেল
সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন নির্দেশিকাটি তাদের নিজস্ব বাস্তবতা আর প্রয়োজন অনুসারে নীতিমালা প্রণয়নের একটি কাঠামো দেবে। এর মূল ভিত্তি ‘৬ আর’ মডেল— Ready (প্রস্তুত), Review (পর্যালোচনা), Restore (পুনরুদ্ধার), Recondition (পুনর্গঠন), Return (প্রত্যাবর্তন) ও Refine (পরিমার্জন)।
কী রয়েছে এই ‘৬ আর’ মডেলে?
এই মডেল অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর একজন মহিলা ক্রিকেটারের শারীরিক পুনরুদ্ধার, চিকিৎসা অবমূল্যায়ন, ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণে ফেরা, ম্যাচের প্রস্তুতি আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করার পর ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে শিথিল প্রশিক্ষণ সূচি, শিশুযত্নে সহায়তা, ভ্রমণকালীন সহায়তা ও টুর্নামেন্ট ভেন্যুতে উপযুক্ত খাদ্য ব্যবস্থা সুবিধা।
আরো পড়ুন: 'চাকরি' পাকা হল না! এই দুজন তাবড় ক্রিকেটার সেঞ্চুরি করেও টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা পেলেন না!
মাতৃত্ব তাদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়:
প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ফিলিপ্পা লেঙ্গে। তাঁর মতে, এই কাঠামোর লক্ষ্য, মাতৃত্ব মানেই ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়, এই বলে মহিলা ক্রিকেটারদের আশ্বস্ত করা।
জয় শাহ জানান, “এই নির্দেশিকাগুলি মহিলারা যাতে মাঠের ভিতরে এবং বাইরে সব জায়গাতেই সমান ভাবে বিকশিত হতে পারেন, তেমনই এক ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার*।
মহিলা ক্রিকেটে মাতৃত্ব-পরবর্তী সহযোগিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের কল্যাণ এবং মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য উপযুক্ত ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তোলায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
আরো পড়ুন: গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে বড় কথা 'ফাঁস' করে দিলেন শ্রীসন্থ!