মানব সুতারের স্পিনের জাদুতে মুগ্ধ শিবরামকৃষ্ণন, মনে করালেন ৭০-৮০র দশকের কথা!
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে দারুন বোলিং করে নজর কেড়ে নিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। প্রথম ইনিংসেই ২১.৪ ওভার বল করে, ৭৬ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন চার উইকেট। তাঁর এমন তাঁর বোলিং দেখে ভারতীয় ক্রিকেটের পুরনো দিনের স্পিনারদের কথা মনে করছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন। কী বললেন তিনি?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে দারুন বোলিং করে নজর কেড়ে নিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। প্রথম ইনিংসেই ২১.৪ ওভার বল করে, ৭৬ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন চার উইকেট। তাঁর এমন তাঁর বোলিং দেখে ভারতীয় ক্রিকেটের পুরনো দিনের স্পিনারদের কথা মনে করছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণন।
৭০-৮০র দশকের ভারতীয় স্পিনারদের মতো খেলেন মানব!
শিবরামকৃষ্ণন বলেন, যেন ৭০-৮০র দশকের ভারতীয় স্পিনারদের প্রত্যাবর্তন হয়েছে মানব সুতারের মধ্য দিয়ে। তাঁর মতে, সুতারের বোলিংয়ে যা বৈশিষ্ট্য আছে, এখনকার স্পিনারদের মধ্যে তা খুব একটা চোখে পড়ে না।
সুতারের বোলিংয়ের বিশেষত্ব কী?
সুতারের বোলিংয়ে সবথেকে বেশি আলোচনায় এসেছে, তাঁর বল ছাড়ার মুহূর্তে সিমের অবস্থান। তিনি প্রথম স্লিপের দিকে নিখুঁত সিম রেখে বল করেন। বল বাতাসে ডিপ করে ব্যাটারের কাছে পৌঁছনোর আগেই ও ড্রিফট করে। তবে শিবরামকৃষ্ণনের মতে, শুধু সিমের অবস্থান নয়, সুতারকে বিশেষ করে তুলছে, বল করার আগে তাঁর শরীরের মুভমেন্ট।
সুতারের 'রকব্যাক ক্যাটাপাল্ট’ মুভমেন্ট:
প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার আরোও বলেন, বল ছাড়ার একদম আগেই একটি বিশেষ ‘রকব্যাক ক্যাটাপাল্ট’ মুভমেন্ট আছে সুতারের। এই কৌশল বিষাণ সিং বেদী, এরাপল্লি প্রসন্ন ও এস ভেঙ্কটরাঘবনের বড় বড় কিংবদন্তি স্পিনারদের মধ্যে তিনি দেখেছেন। দ্রুত স্ট্রাইড নিয়ে আধুনিক ক্রিকেটে স্পিনাররা বল করে ফেলায় খুব একটা এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না।
তৃতীয় দিনের গল টেস্টে দ্রুত উইকেট দরকার ছিল ভারতের। সেই সময় রবীন্দ্র জাডেজা আর কুলদীপ যাদবের উপর তো বটেই, অধিনায়ক শুভমন গিল মানব সুতারের উপরও আস্থা রেখেছিলেন। প্রথম বলে সাফল্যও পান তিনি।
আরো পড়ুন: ডব্লিউসিএল-এর তৃতীয় মরশুমে থাকছে বিরাট চমক, থাকছেন ডেভিড ওয়ার্নারসহ যুবরাজ-ডি ভিলিয়ার্সরাও!
সুতারের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য:
শিবরামকৃষ্ণন মনে করেন, সুতারের বোলিংয়ে বৈচিত্র্যও রয়েছে। তিনি সাধারণত স্পষ্ট সিম রেখে বল করেন। কখনও আবার স্ক্র্যাম্বলড সিমও ব্যবহার করেন। ফলস্বরূপ ব্যাটারের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যদি ব্যাটার বারবার একই সিম দেখে বল পড়ে নেন, তখন তাঁকে স্ক্র্যাম্বলড সিমের ব্যবহার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
মানব সুতারের বোলিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, তাঁর ছোট ডেলিভারি স্ট্রাইড। এতে বজায় থাকে তাঁর শরীরের ভারসাম্য, ওজনের নিখুঁত স্থানান্তর হয় পিছনের পা থেকে সামনের পায়ে। এমনকি তাঁর হিপ ড্রাইভও খুবই মসৃণ। বল করার সময় তিনি তাড়াহুড়ো করেন না বলে মনে করেন শিবরামকৃষ্ণন। তাঁর বল করার স্টাইল মনে করিয়ে দেয় পুরনো দিনের ক্লাসিক ভারতীয় স্পিনারদের কথা।
সাধারণত গলের পিচে তৃতীয় দিনে স্পিনাররা ভালোই সাহায্য পান। গত দশটি টেস্টে গলে তৃতীয় দিনে গড়ে প্রায় ৪.২৩ ডিগ্রি টার্ন পাওয়া গেছে। সেখানে সুতার আঙুলের স্পিনার হয়েও প্রায় ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বল ঘোরাতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে উঠে আসার পর ভারতের স্পিন ঐতিহ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাহক হিসেবে দেখা হচ্ছে সুতারকে। ২৪ বছরের এই বাঁহাতি স্পিনার গল টেস্টের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছেন।
আরো পড়ুন: এতটা 'বেইজ্জতি' হল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার, বাংলাদেশের কাছে হেরে মুখ পুড়ল পন্টিং-হেডেনদের!




