নিউজ

ছেলের সাফল্যে কেবলই সুখের মুখ দেখেছিলেন, কিন্তু সুখ আর ভোগ করা হল না রিঙ্কুর বাবার! কীভাবে কাটল রিঙ্কুর‌ বাবার শেষ জীবন?

খানচন্দ্র সিং আলিগড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবসা করতেন। একটা ছোট ভ্যানে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিলিন্ডার ডেলিভারি করতেন তিনি। সংসারের অনটন ছিল চরমে‌।

Souvik Das
লিখেছেনSouvik Das
প্রকাশিত 3 মিনিট পড়া
RINKU SINGH FATHER
RINKU SINGH FATHER

'জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে'— মনে‌ পড়ে যায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই বিখ্যাত লাইন। জন্মগ্ৰহন করলে যে মৃত্যুবরণ করতেই হবে তা স্পষ্ট। কিন্তু, যাই হোক না কেন, নিজের মানুষদের হারানোর যন্ত্রণা একমাত্র তারাই জানেন। ভারতীয় দলের অন্যতম ফিনিশার রিঙ্কু সিংকেও আজ এরকম একটা দিন দেখতে হল। চিরকালের জন্য রিঙ্কুকে হারাতে হল তার বাবাকে।

কেমন ছিল রিঙ্কুর বাবার শেষ অধ্যায়?

বিশ্বকাপ চলায় রিঙ্কু যথেষ্ট ব্যস্তই ছিলেন। কিন্তু, তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার বাবার অবস্থা শোচনীয় বলে তাকে নয়ডাতে ফিরতে হয়। কারণ, গ্ৰেটার নয়ডার একটা বেসরকারি হাসপাতালে রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ্র সিং ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। তবে আর ঘর ফিরতে পারলেন না তিনি। বর্তমানে রিঙ্কু যে জায়গায় রয়েছেন তাঁর নেপথ্যে রয়েছেন বাবা খানচন্দ্র সিং। সামান্য গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি করা থেকে তিনি যেভাবে রিঙ্কুকে তৈরি করেছেন তা সত্যিই একটা অধ্যায়। 

আমাদের আপনার বিশ্বস্ত উৎস হিসাবে যোগ করুনআমাদের কভারেজ প্রথমে পেতে Google-এ Cricket Winner ফলো করুন।
★ Cricket Winner যোগ করুন

আরো পড়ুন: ‘টাফ এনভায়রনমেন্ট মেকস টাফ পিপল’— জম্মু-কাশ্মীরের আউকিবকে নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলির আবেগঘন পোস্ট ভাইরাল!

হ্যাঁ, খানচন্দ্র সিং আলিগড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবসা করতেন। একটা ছোট ভ্যানে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সিলিন্ডার ডেলিভারি করতেন তিনি। সংসারের অনটন ছিল চরমে‌। আর্থিক সংকটের জন্য রিঙ্কুর এক ভাই অটো রিক্সাও চালাতেন। আর অন্য এক ভাই একটি কোচিং ইনস্টিটিশনে কাজ করতেন। এমনকি, একটা সময় রিঙ্কু নিজেও ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন। তবে আর্থিক সমস্যা থাকলেও রিঙ্কুর ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার কথা সকলেই জানতেন। তাই সীমিত সামর্থ্য দিয়েও তাঁরা বাবা ক্রিকেট খেলায় রিঙ্কুকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করে গিয়েছেন।

ঝাড়ুদার থেকে রিঙ্কু আজ ২৮ কোটির মালিক!

যদিও সেই অনবদ্য লড়াইয়ের ফল পেয়েছেন রিঙ্কু। সালটা ২০১৮, সেইসময় ৮০ লাখ টাকায় কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে নেওয়া হয়। ব্য্যাস! তারপরেই ঘুরে যায় রিঙ্কুর ভাগ্যের চাকা। রিঙ্কুকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর একের পর এক ইনিংস খেলে রিঙ্কু নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন। একটা সাক্ষাৎকারে রিঙ্কু জানিয়েছিলেন, IPL-এর প্রথম মরশুমের টাকা দিয়ে তিনি বাবার বহু টাকার ঋণ শোধ করবেন। আর সেই থেকে রিঙ্কু ক্রমশ নিজের কেরিয়ারে এগিয়ে গেছেন এবং নিজের পরিবারকেও উন্নীত করেছেন।

আরো পড়ুন: ৭২ রানের ব্যবধানে ভারত জিতল ঠিকই, কিন্তু তবুও থেকে গেল চিন্তা! জানেন, কেন?

যদিও, ২০১৭ সালে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পাঞ্জাব কিংসে যোগ দেন রিঙ্কু। তারপরে আসেন কেকেআর-এ। ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ৮০ লাখ টাকা করে পেতেন। কিন্তু, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁর বেতন কমে হয় ৫৫ লাখ টাকা। তবে, ২০২৫ সালে তাঁকে ১৩ কোটি টাকার বিনিময়ে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এখন রিঙ্কু নাইট শিবিরের পাশাপাশি দেশের জার্সিতেও নিয়মিত। আলিগড়ের ছোট ঘর থেকে তিনি প্রাসাদোপম বাড়ি বানিয়েছেন নিজের পরিশ্রমের টাকায়। এমনকি বিয়েও করেছেন তিনি। অর্থাৎ, বলতে গেলে তাঁর বাবা ও পরিবারের মানুষের লড়াই রিঙ্কুকে ফল এনে দিয়েছেন। তাই একটা সময়েযর ঝাড়ুদার রিঙ্কু এখন প্রায় ২৮ কোটির মালিক।

ট্যাগ:IndiaRinku Singh
আমাদের অনুসরণ করুন9M+ fans across platforms

লেখক সম্পর্কে

Souvik Das
লিখেছেন

Souvik Das

editor · 866 নিবন্ধ

বিগত ৪ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতার সাথে লেখালেখি করেছি। কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই লেখালেখির দুনিয়ায় মূলত পা রাখা। ক্রিকেটের একজন অন্ধ ভক্ত। এর আগেও আমি বহু চ্যানেলে লেখালেখি করেছি। যেখানে প্রতিটি জায়গায় আমি আমার লেখা দিয়ে খেলাধুলার আবেগ, উত্তেজনা এবং বিশ্লেষণ পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

“

বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা আমার কাজ নয়

রোহিত শর্মা, ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে শিরোপা দেওয়া নিয়ে প্রশ্নে