দিনে ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি আর রাতে ক্রিকেট খেলা— আইপিএলে দেখা যেতে পারে এই তাবড় ক্রিকেটারকে?
অফিসের ল্যাপটপ, আর অন্যদিকে রয়েছে ক্রিকেটের বল। দুটির মধ্যে কোন দিকে বেছে নেবেন দিল্লির তরুণ পেসার অংশুমান হুডা? শুনে নিবেই শেষে ফেলেছিলেন তিনি। উত্তর দিয়েছিলেন এক চুটকিতে। বেছে নিয়েছিলেন পছন্দের ক্রিকেট বলকে।

অফিসের ল্যাপটপ, আর অন্যদিকে রয়েছে ক্রিকেটের বল। দুটির মধ্যে কোন দিকে বেছে নেবেন দিল্লির তরুণ পেসার অংশুমান হুডা? শুনে নিবেই শেষে ফেলেছিলেন তিনি। উত্তর দিয়েছিলেন এক চুটকিতে। বেছে নিয়েছিলেন পছন্দের ক্রিকেট বলকে। এবার তাঁর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিল জীবনের গতিপথ।
বিশ্বখ্যাত সংস্থায় কাজের বদলে মাঠকেই বাছলেন অংশুমান!
অংশুমান দিল্লির এক সাধারণ শিক্ষিকা পরিবারের সন্তান। দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ২০২৩ সালে প্রোডাকশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। তারপর ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টে চাকরি পান বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক সংস্থা ইওয়াই-তে। সেই সময় তাঁর সামনে নিশ্চিত ভবিষ্যতের হাতছানি। তবে, শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় বাইশ গজের টান।
কোচ হরিশ ডাগরের নজরে অংশুমান!
ক্রিকেট নয়, ছোটবেলায় অংশুমানের প্রথম প্রেম বলতে রোলার স্কেটিং। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতাতেও তিনি অংশ নিয়েছেন। কলেজে উঠে বন্ধুদের সাথে টেনিস বলে ক্রিকেট খেলতে গিয়েই তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় পেস বোলিংয়ের প্রতি। ২০১৯ সালে নাগাদ কোচ হরিশ ডাগরের নজরে আসে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা, বোলিং অ্যাকশন আর দুর্দান্ত গতি। তাঁর পরামর্শেই নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যায় অংশুমানের।
দু’বার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা হয়নি অংশুমনের:
পর পর দু’বার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন অংশুমান। ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে আবারও চাকরির জীবনে মন দেওয়ার কথাও চিন্তা করতেন। তবে তাঁকে আরও এক বছর সময় নেওয়ার পরামর্শ দেন কোচ ডাগর। সেই সুযোগটাই এই তরুণ পেসার কাজে লাগান।
আরো পড়ুন: বিরাট থেকে রোহিত, ভারতের এই ৫ মহাতারকা করবে অবসর ঘোষণা! অপেক্ষা কেবল এই একটি বিষয়ের...!
দিনে অফিসের কাজ আর রাতে বোলিং প্র্যাকটিস করতেন অংশুমান:
চাকরির ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ হওয়ার, সুযোগ কাজে লাগিয়ে অংশুমান দিনের বেলায় অফিসের কাজ করতে। রাতে ক্রিকেট অনুশীলন করতেন। প্রথমে নেট বোলিং, তারপর চলত জিম। ধীরে ধীরে তাঁর গতি পৌঁছে যায় ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটারের আশেপাশে। সঙ্গে নিজের বোলিংয়ে তিনি যোগ করেন লেগ কাটার আর অফ কাটারের মতো বৈচিত্র্যও।
২২ টি উইকেট শিকার করেন অংশুমান:
এবছরের দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে পরিশ্রমের ফল পান তিনি। সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জের হয়ে অংশুমান ২২টি উইকেট শিকার করে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। জেতেন পার্পল ক্যাপ। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁর দল।
এবার আইপিএল-এর একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির ট্রায়াল আর নেট বোলার হিসেবে দিল্লির এই তরুণ পেসার ডাক পাচ্ছেন। সামনে রয়েছে রনজি ট্রফি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরি ছেড়ে ক্রিকেটের বাইশ গজ— এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশুমানের লড়াই জায়গা করে নেওয়ার জন্য।
আরো পড়ুন: বৈভবকে 'ক্রিকেট ঈশ্বর'-এর পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দিল বিসিসিআই!




