ঘণ্টায় ৯৫ মাইলেরও বেশি দুরন্ত গতি এবার অতীত! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে 'আলবিদা' জানিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের এই বিশ্বজয়ী তারকা!
ঘণ্টায় ৯৫ মাইলেরও বেশি দুরন্ত গতি, আগ্রাসী স্পেল ও অনমনীয় লড়াকু মানসিকতা। ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১১ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। এবার সেই যাত্রায় ইতি টানলেন তারকা পেসার মার্ক উড। একের পর এক চোট আঘাতের সমস্যা পেরীয় ফিনিক্স পাখির মতো তিনি ফিরে এসে আবারো ইতিহাস লিখেছিলেন।

ঘণ্টায় ৯৫ মাইলেরও বেশি দুরন্ত গতি, আগ্রাসী স্পেল ও অনমনীয় লড়াকু মানসিকতা। ইংল্যান্ডের জার্সিতে ১১ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। এবার সেই যাত্রায় ইতি টানলেন তারকা পেসার মার্ক উড। একের পর এক চোট আঘাতের সমস্যা পেরীয় ফিনিক্স পাখির মতো তিনি ফিরে এসে আবারো ইতিহাস লিখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ আর ছুটির কাছেই হার মানতে হলো ৩৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারকে। অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আলবিদা বললেন এই গতিদানব।
উডের পরিসংখ্যান এক নজরে দেখে নিন!
২০১৫ সালে লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে উডের আত্মপ্রকাশ ঘটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। তারপর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ৩৮ টি টেস্ট ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৯ টিকেট স্বীকার করেছিলেন তিনি। মাত্র লালু বলের ক্রিকেট বলেই নয়, শ তিনি সমানভাবে সফলতা পেয়েছেন সাদা বলের ক্রিকেটে। ওয়ানডে ফরম্যাটে উড ৭০টি ম্যাচ খেলে ৮০টি উইকেট পুরেছেন নিজের ঝুলিতে। ৩৮টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে তিনি ৫৪টি উইকেট শিকার করেছেন।
বিশ্বকাপ জয়ে দুই অবিস্মরণীয় নায়ক!
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাসের উড দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন। ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। সেখানেও বড় অবদান রেখে ১৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। চোট সামলে উঠে ৯৫ মাইলের বেশি গতিতে বল করে সবার নজর কেড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সাইড স্ট্রেইন নিয়ে ফাইনালেও নিজের সর্বস্ব দিয়ে বল করেছিলেন উড। পরবর্তী কালে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উডের। মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলে ৯টি মূল্যবান উইকেট শিকার করেন তিনি।
অ্যাশেজের স্মৃতিময় ঐতিহাসিক সাফল্য:
কেরিয়ারে এই ডানহাতি পেসার মোট চারটি অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়েছেন। ২০১৫ সালে অভিষেক অ্যাশেজেই ট্রেন্ট ব্রিজে তিনি ইংল্যান্ডের ট্রফি পুনরুদ্ধারের অন্যতম সেরা মুহূর্তের সাক্ষী হন। তাছাড়াও ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডকে হেডিংলি টেস্টে সিরিজে নিজের আগুন ঝরানো বোলিং দিয়ে ফিরিয়ে এনেছেন। তাঁর ওপর ভর করে ০-২ পিছিয়ে পড়লেও, অবশেষে ২-২ সমতায় সিরিজ শেষ করে।
চোটের সামনে পরাজয় স্বীকার করলেন উড:
বারবার প্রত্যাবর্তন আর লড়াকু মানসিকতা থাকার পরেও উডের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ক্রমাগত চোটই শেষ পর্যন্ত দাড়ি টানলো। অবসর নিয়ে আবেগ তাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আমি অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত এক বছরে যা কিছু ঘটেছে, তার উপর নির্ভর করে এমন সিদ্ধান্ত মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। বারবার চোট কাটিয়ে ফিরতে চেষ্টা করে গিয়েছি। তবে এবার আর পারিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে টেস্ট ও ৫০ ওভারের ম্যাচে মাঠে নামা অসম্ভব। ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্নটা ফুরিয়ে এল।”




