হার্ড লেংথের সামনে আবারও অসহায় ভারত, বিদেশের মাটিতে পুরনো দুর্বলতাই কি ডুবিয়ে দিল দলকে?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে তৃতীয় টি-২০-তে ১২৫ রানে ভারতের লজ্জাজনক হার শুধু একটি খারাপ দিনের ফলাফল নয়। এই পরাজয় ফের প্রমাণ করে দিল, দ্রুতগতির বোলারদের বিদেশের মাটিতে নিখুঁত হার্ড লেংথের বল সামাল দেওয়া এখনও ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ম্যাচের শেষে ব্যাটিংকে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার "ভয়াবহ" বলে মন্তব্য করেছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে তৃতীয় টি-২০-তে ১২৫ রানে ভারতের লজ্জাজনক হার শুধু একটি খারাপ দিনের ফলাফল নয়। এই পরাজয় ফের প্রমাণ করে দিল, দ্রুতগতির বোলারদের বিদেশের মাটিতে নিখুঁত হার্ড লেংথের বল সামাল দেওয়া এখনও ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ম্যাচের শেষে ব্যাটিংকে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার "ভয়াবহ" বলে মন্তব্য করেছেন।
বিদেশ সফরে বারবার একই চিত্র - ভারতের দুর্বলতাকে আরোও স্পষ্ট করে দিচ্ছে গত কয়েকটি বিদেশ সফরের পরিসংখ্যান।
বিদেশ সফরে ভারতের পরিসংখ্যান!
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আয়োজিত গত এশিয়া কাপে ৬ থেকে ১০ মিটার লেংথে করা পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটারদের গড় ১৮.৪২। আয়ারল্যান্ড সফরে ভারত ২-০ ব্যবধানে সিরিজে হেরে গিয়েছিল, সেই গড় নেমে গিয়েছে ১৭.১৭-তে। এবারের ইংল্যান্ড সিরিজে আরও কমে সেই গড় হয়েছে মাত্র ১৪.২৯।
ঘরের মাঠে ভারতের পারফরম্যান্স!
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সময় ঘরের মাঠে একই ধরনের লেংথের বলের বিপক্ষে ভারতের ব্যাটারদের গড় ছিল ৪৭.৭০ ও স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৫.৬৩। l
ভারতের বোলাররাও সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন:
ভারতের পেসাররা ট্রেন্ট ব্রিজে শুরুতে সুইং পেলেও, পরে হার্ড লেংথে বল করে চাপে ফেলেছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটারদেরও। ম্যাচের শেষে হ্যারি ব্রুক স্বীকার করেছেন, সবচেয়ে কার্যকর পরিকল্পনা ছিল, এই উইকেটে স্টাম্প লক্ষ্য করে হার্ড লেংথে বল করা।
ইংল্যান্ডের ওপেনার ফিল সল্টও পেসারদের বিরুদ্ধে খুব একটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। স্পিনারদের বিরুদ্ধে দ্রুত রান করলেও পেস বোলিংয়ের সামনে তাঁকেও সংগ্রাম করতে হয়েছে। এতে বোঝা যায়, উইকেটটি ব্যাটিংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।
গতির সঙ্গে নিখুঁত লেংথ, সেখানেই বাজিমাত ইংল্যান্ডের:
জোফ্রা আর্চার ও জশ টংয়ে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ধারাবাহিকভাবে হার্ড লেংথে বল করে ভারতের ব্যাটিংকে ভেঙে দেন।
ভারতের বোলাররা যেখানে পুরো ইনিংসে মাত্র দু'টি বল ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে করতে পেরেছিলেন, সেখানে ইংল্যান্ডের পেসারদের গড় গতি ছিল ১৪৩.৮২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। গতি, বাউন্স ও নিখুঁত লেংথ—এই তিনের মিশ্রণেই ভারতের ব্যাটারদের কার্যত দিশেহারা করে দেয় ইংল্যান্ড।
আরো পড়ুন: চাকরি হারাতে চলেছেন গৌতম গম্ভীর, বদলে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়ার কোচ? বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে BCCI!
একের পর এক উইকেট হারায় ভারত:
তরুণ বৈভব সূর্যবংশী শুরুতেই জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারের ফাঁদে পড়েন। এরপর অভিষেক শর্মা, ইশান কিষাণ, অক্ষর পটেল ও শিবম দুবে, ক্রিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রায় সকলেই হার্ড লেংথের বল সামলাতে ব্যর্থ হন।
৬ থেকে ১০ মিটার লেংথে আর্চার ও টংয়ে মোট ২৬টি বল করে মাত্র ২৪ রান খরচায় পাঁচটি উইকেট তুলে নেন। এই স্পেলই ভারতের ব্যাটিং ধসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যদি ভবিষ্যতে ভারত বিদেশের মাটিতে পরপর সাফল্য পেতে চায়, তাহলে এই প্রযুক্তিগত দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠা হবে দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নাহলে প্রতিপক্ষ দলগুলি একই কৌশল ব্যবহার করে চাপে ফেলবে ভারতের ব্যাটিংকে।




