মেহেদি হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব কি চাপের মুখে? ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বাড়ছে জল্পনা!
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সাত উইকেটে জয় পেয়ে স্বস্তিতে বাংলাদেশ। যদিও সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় টাইগাররা ২-১ ব্যবধানে হাতছাড়া করেছে সিরিজ।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সাত উইকেটে জয় পেয়ে স্বস্তিতে বাংলাদেশ। যদিও সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়ায় টাইগাররা ২-১ ব্যবধানে হাতছাড়া করেছে সিরিজ। তাই মেহেদি হাসান মিরাজের অধিনায়কত্ব ধরে রাখতে শেষ ম্যাচের এই সান্ত্বনার জয় সত্যিই যথেষ্ট হবে কি না, সেই নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন!
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মিরাজের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলেও, ইতিমধ্যেই তাঁর অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান ও একাধিক কৌশলগত ভুল প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে আর নামিবিয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা বিশ্বকাপকে লক্ষ্য রেখে বিষয়টি খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে।
অধিনায়ক হিসেবে মিরাজের পরিসংখ্যান:
এখন পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ১০টিতে জয় এসেছে, আর হার হয়েছে ১৩টিতে আর একটি ম্যাচ হয়েছে টাই। অর্থাৎ মাত্র ৪১.৬৬ শতাংশ তাঁর জয়ের হার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, বাংলাদেশের বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স। দেশের বাইরে মিরাজের নেতৃত্বে ১৩টি ওয়ানডের মধ্যে মাত্র জয় এসেছে দুটিতে। অন্যদিকে, ১১ ম্যাচে ঘরের মাঠে জয় আটটি।
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে মিরাজকে নিয়ে সমালোচনা!
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সমালোচনা শুরু হয় মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে। নাহিদ রানা হারারের পেস-সহায়ক উইকেটে পাঁচ উইকেট নিয়ে ৭০ রানে জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেট হারানোর অবস্থায় ফেলে দেন। হাতে তখনও ছিলেন দুই অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ এই মুস্তাফিজুর রহমান। তবে, তাদের পরিবর্তে নিজে ও রিশাদ হোসেনকে মিরাজ আক্রমণে আনেন।
আরও পড়ুন- উইম্বলডনে বৈভবের নিউ লুক দেখে হইচই সোস্যাল মিডিয়ায়!
শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। রিচার্ড এনগারাভা আর নবম উইকেটে নিউম্যান নিয়ামহুরি ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে লড়াই করার মতো স্কোরে জিম্বাবুয়েকে পৌঁছে দেন। পরে বাংলাদেশ মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও মিরাজের পারফরম্যান্স আলোচনায়:
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও মিরাজের সামনে ম্যাচ জেতানোর সুযোগ ছিল। শেষ ১২ বলে মাত্র ১৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। তখন মিরাজ ২৭ রানে ব্যাট করছিলেন। তবে ওভারের প্রথম বলেই তিনি আউট হয়ে যান বড় শট খেলতে গিয়ে। এরপরই বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে যায়।
প্রশ্ন উঠেছে মিরাজের দল পরিচালনা নিয়ে:
প্রশ্ন উঠেছে মিরাজের দল পরিচালনা নিয়েও। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভালো বোলিং করার পরও মোসাদ্দেক হোসেন মাত্র দুই ওভার বল করার সুযোগ পান জিম্বাবুয়ে সিরিজে। ভালো পারফরম্যান্সের পর শামিম হোসেন আর সাইফ হাসানের মতো পার্ট-টাইম স্পিনাররাও আর নিয়মিত সুযোগ পাননি।
২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শামিম গুরুত্বপূর্ণ স্পেল করেন। তবুও পরের ম্যাচে দল থেকেই বাদ পড়েন মাত্র চার ওভার বল করেই। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সুপার ওভারে বল করার দায়িত্ব পান সাইফ হাসান। পরবর্তী আটটি ওয়ানডেতে তিনি মাত্র তিন ওভার বল করতে সুযোগ পান। অনেক সময় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে আসা রিশাদ হোসেন পূর্ণ আস্থা পাননি অধিনায়কের। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ২০২৭ বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত মেহেদি হাসান বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেন কিনা সেটাই দেখার।




