Vaibhav Sooryavanshi's Weakness: বৈভবের 'দুর্বলতা' জেনে গিয়েছেন আর্চার!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখালেও বিশাল পরীক্ষার মুখে পড়লেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। সেই পরীক্ষার নাম আর কেউ নন, জোফ্রা আর্চার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখালেও বিশাল পরীক্ষার মুখে পড়লেন ভারতের ১৫ বছর বয়সী ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। সেই পরীক্ষার নাম আর কেউ নন, জোফ্রা আর্চার। শুরু থেকেই বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির এই পেসার বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শিখতে হবে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে।
জোফ্রা আর্চার বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ!
একসঙ্গে রাজস্থান রয়্যালসে থাকার সময় থেকেই আর্চার বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই দলের নেট সেশনে আর্চারের গতির বিপক্ষে দুর্দান্ত সব শট খেলে চমক দেন বৈভব। কুমার সাঙ্গাকারা সেই স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, নতুন বল হাতে আর্চার যখন বোলিং করছিলেন,তখন যেন "গুলি ছোড়ার" শব্দ বেরোচ্ছিল বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে একেবারেই ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে নামেন আর্চার।
জাসপ্রীত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট, প্যাট কামিন্সের জবাব দেওয়া বৈভব হারলেন আর্চারের কাছে:
ম্যানচেস্টারে বৈভব অভিষেক ম্যাচেই আর্চারের প্রথম বলকে ছক্কায় উড়িয়ে দিয়ে সকলকে চমক দেন। ইতিপূর্বে জসপ্রিত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট, প্যাট কামিন্সের মতো বিশ্বমানের বোলারদের বিপক্ষে প্রথম সুযোগেই বৈভব ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। তবে এবার কৌশল বদলে ফেলেছেন আর্চার। ফুল লেংথ বল প্রায় বন্ধ করে তিনি শর্ট বল আর ইয়র্কারের মিশ্রণে চাপে ফেলেন বৈভব সূর্যবংশীকে।
বৈভবকে নিয়ে কী বললেন আর্চার?
আর্চারের পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল নটিংহ্যামে। লেগ স্টাম্প লক্ষ্য করে পরপর বাউন্সার আর মাঝে মাঝে ইয়র্কার, ঠিক এই কৌশলেই ভারতীয় তরুণকে খেলতে বাধ্য করেন তিনি। কিন্তু একটি আপার কাটে বৈভব ছক্কা মারেন। শেষমেষ ১৪৫ কিলোমিটারের উচ্চ গতির একটি শর্ট বলে বৈভব গ্লাভস ছুঁয়ে ক্যাচ দিলেন জস বাটলারের হাতে। সেই ম্যাচের পর মজা করে আর্চার বলেন, "এখন স্কোর সমান। আরও দুটি ম্যাচ আছে সামনেই, দেখাই যাক কে জেতে।"
অর্চারের নতুন পরিকল্পনায় অবাক বৈভব:
ব্রিস্টলেও আর্চার একই পরিকল্পনা বজায় রেখেছেন প্রথম থেকেই শর্ট বল, শরীর তাক করে বাউন্সার, আর মাঝে মাঝে ইয়র্কার। প্রতিটি শর্ট বল বৈভব আক্রমণ করার চেষ্টা করেন, তবে একটিও ঠিকমতো টাইমিং করতে তিনি পারেননি। অবশেষে আরেকটি বাউন্সারে বড় শট খেলতে গিয়ে তিনি মিড-অনে ক্যাচ দেন। এটা নিয়ে আর্চারের বিপক্ষে ১৩ বলে ১৮ রান, দুইটি ছক্কা আর দু'বারই আউট বৈভব। এতেই স্পষ্ট, দুজনের লড়াই জমে ক্ষীর।
আর্চরের কাছে ধরাশায়ী হয়ে কি শিক্ষা গ্রহণ করবেন বৈভব?
তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই লড়াই বৈভবের শেখার জন্য অনেক বড় সুযোগ। একই জায়গায় ধারাবাহিকভাবে এই বিশাল গতিতে শর্ট বল করতে পারেন এমন আর্চারের মতো বোলার খুব কমই আছেন। তাই প্রত্যেকটা বাউন্সার না মেরে, পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে। টি-২০-র কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের মতো ধৈর্য রেখে অন্য বোলারদের বিপক্ষে বিশাল রান তোলার কৌশলও কাজে লাগবে ভবিষ্যতে।
ইতিমধ্যেই সিরিজ জিতে গিয়েছে ইংল্যান্ড। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম সিরিজে বৈভব কীভাবে এমন কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান শেষ ম্যাচে, সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।




