পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ এক নয়, কারণ জানলে অবাক হবেন!
ভারতীয় পুরুষ আর মহিলা ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের মানসিক চাপের ধরন এক্কেবারে আলাদা। এমনই সেই অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন অভিনেত্রী তথা ক্রীড়া সঞ্চালক সাহিবা বালি। তাঁর ভারতীয় পুরুষ আর মহিলা ক্রিকেট দল, দুই দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে রয়েছে। তিনি জানান, পুরুষ ক্রিকেটারদের প্রধান চিন্তা হল নিজেদের সাফল্যকে ধরে রাখা। অন্যদিকে, মহিলা ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনা ও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া। কী জানালেন অভিনেত্রী তথা ক্রীড়া সঞ্চালক সাহিবা বালি?

ভারতীয় পুরুষ আর মহিলা ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের মানসিক চাপের ধরন এক্কেবারে আলাদা। এমনই সেই অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন অভিনেত্রী তথা ক্রীড়া সঞ্চালক সাহিবা বালি। তাঁর ভারতীয় পুরুষ আর মহিলা ক্রিকেট দল, দুই দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে রয়েছে। তিনি জানান, পুরুষ ক্রিকেটারদের প্রধান চিন্তা হল নিজেদের সাফল্যকে ধরে রাখা। অন্যদিকে, মহিলা ক্রিকেটারদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনা ও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া।
সাক্ষাৎকারে ঠিক কী জানালেন সাহিবা বালি?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সাহিবা বালি জানিয়েছেন, তিনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সাথে কাজ করে সবথেকে বেশি আনন্দ পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, মহিলা ক্রিকেটাররা ভীষণ উৎসাহী, আন্তরিক ও নতুন মানুষদের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। সেই জন্যই ভবিষ্যতেও তাঁদের সঙ্গে তিনি আরও কাজ করবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিনের সাফল্য ধরে রাখার চাপ থাকে পুরুষ ক্রিকেটারদের ওপর!
সাহিবা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের সাফল্যকে ধরে রাখার বিরাট চাপ কাজ করে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটারদের ওপর। প্রতিটা ম্যাচেই জয়ের প্রত্যাশা থাকে তাঁদের কাছ থেকে। অন্যদিকে, মহিলা ক্রিকেটারদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের জন্য সাফল্য নিয়ে আসা, নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা আর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে চলা।
কী জানালেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর রিম্পা সরকার:
এই প্রসঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর রিম্পা সরকার জানিয়েছেন, এই দুই রকমের মানসিক চাপের প্রকৃতি একেবারে আলাদা। তিনি জানান, পুরুষ ক্রিকেটারদের চাপের আসল কারণ হলো অর্জিত সম্মান, সুনাম আর সাফল্যকে ধরে রাখার বড় দায়িত্ব। প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার ভয় তাঁদের ওপর আরোও বেশি চাপ সৃষ্টি করে।
নিজদের প্রমাণ করার চাপ মহিলা ক্রিকেটারদের ওপর:
অন্যদিকে, মহিলা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ তৈরি হয় নিজেদের প্রমাণ করার লড়াই নিয়ে। শুধু ম্যাচ জেতার জন্যই তাঁরা খেলেন না। মহিলা ক্রিকেটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো, আগামী প্রজন্মের জন্য আরও বড় সুযোগ তৈরি করা আর দেশের মানুষের আস্থা অর্জনের গুরু দায়িত্বও থাকে তাঁদের কাঁধে। তাই তাঁদের ওপর থাকা মানসিক চাপ অনেক সময়ই ব্যক্তিগত সাফল্যের সীমাকে অতিক্রম করে জড়িয়ে যায় বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে।
আরো পড়ুন: লাগাতার গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে ব্যর্থতা, এবার কি তবে কড়া সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে BCCI?
মহিলা ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ কতটা:
ডক্টর রিম্পা সরকার মনে করেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলতে হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তি এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, মহিলা ক্রিকেট যত বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করবে, ততই সমর্থকদের প্রত্যাশা তাঁদের ওপর, সংবাদমাধ্যমের নজর আর সমালোচনার চাপও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ক্রিকেট বোর্ড এর ক্রীড়া সংস্থাগুলির উচিত শারীরিক অনুশীলনের সঙ্গে কাঙ্গে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া। খেলোয়াড়রাও নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আর সহায়তা পেলে, চাপ সামলে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারবেন সমর্থকদের।
আরো পড়ুন: Vaibhav Sooryavanshi's Weakness: বৈভবের 'দুর্বলতা' জেনে গিয়েছেন আর্চার!




