হার্দিককে নিতে ২০ কোটিরও বেশি খরচ হবে? ডুবে-ব্রেভিস প্যাকেজে লাভবান হবে মুম্বই!
হার্দিক পাণ্ডেয়াকে নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আইপিএলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে চেন্নাই সুপার কিংস হার্দিককে দলে নিতে আগ্রহী।

হার্দিক পাণ্ডেয়া-কে নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আইপিএলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে চেন্নাই সুপার কিংস হার্দিককে দলে নিতে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য এই ট্রেড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
হার্দিককে নিয়ে দুটি সম্ভাব্য প্রস্তাব:
প্রতিবেদন অনুসারে, এখন আলোচনা চলছে দুটি সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে। প্রথমটা হলো, মুম্বইয়ের হাতে শিবম দুবে আর আয়ুষ মাত্রেকে তুলে দিয়ে হার্দিক পাণ্ডেয়াকে দলে নেওয়া। দ্বিতীয় প্রস্তাবে, আয়ুষ মাত্রেকে ছাড়তে চাইছে না সিএসকে। সেক্ষেত্রে শিবম দুবে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস আর অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা তারা দিতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।
ট্রেডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিই!
যদিও, এখনও পর্যন্ত এই ট্রেডের বিষয়ে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। হার্দিকের নাম বড়, তবে ২০২৬ সিজনের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ২০২৬ সালের আইপিএলে ব্যাট হাতে হার্দিকের পারফরম্যান্স ছিল ভীষন সাধারণ। তিনি ২০৬ রান করেন। তাঁর গড় ছিল ২২.৮৯ আর স্ট্রাইক রেট ১৩৮.২৬। পুরো মরশুম জুড়ে তিনি একটি হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি।
হার্দিকের ব্যর্থতা:
বোলিংয়েও খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি হার্দিক। ২২.৪ ওভারে তিনি মাত্র ৪টি উইকেট নেন ও তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ১১.৪৩। বিশেষ করে তিনি ডেথ ওভারে ছিলেন ব্যয়বহুল।
যদিও হার্দিকের সবথেকে বড় শক্তি হল, তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা, নেতৃত্ব আর ভারতীয় পেস-বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁর বিরল উপস্থিতি। তবু শুধুমাত্র ২০২৬ সালের পারফরম্যান্স বিচার করলে প্রশ্ন উঠছে তাঁর মূল্য নিয়ে।
দুবে ও মাত্রেকে রিলিজ করলে বিরাট লাভ মুম্বইয়ের!
২০২৬ সালে শিবম দুবে ব্যাট হাতে হার্দিকের থেকে অনেক ভালো খেলেছেন। ২৭০ রান করেন তিনি, তাঁর গড় ৩৮.৫৭ আর স্ট্রাইক রেট ১৫৮.৮২। বিশেষত ডেথ ওভারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন তিনি।
অন্যদিকে, মাত্র ছয় ইনিংসে ১৯ বছর বয়সী আয়ুষ মাত্রে ২০১ রান করেন। তাঁর গড় ছিল ৪০.২০ আর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৯.৪৬। ইতিমধ্যেই তিনি আগামী দিনের অন্যতম বড় ভারতীয় প্রতিভা হিসেবে নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষণ অনুসারে, দুবে আর মাত্রের সম্মিলিত সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মূল্য হার্দিকের থেকে অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, হার্দিকের তুলনায় কম দু'জনের মোট বেতন। ফলে মনে করা হচ্ছে, এই ট্রেড হলে সবচেয়ে বেশি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সই লাভবান হবে।
সিএসকের জন্য ব্যয়বহুল ব্রেভিস-সহ ১০ কোটি টাকার প্রস্তাব:
দ্বিতীয় সম্ভাব্য প্রস্তাবে আয়ুষ মাত্রের বদলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে। যদিও ২০২৬ মরশুম ব্রেভিসের জন্য খুব একটা ভালো ছিল না, তবুও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল রয়েছে ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের।
কিন্তু দুবের সাথে ব্রেভিস আর অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা দিলে সেই চুক্তিও বেশি লাভজনক হবে মুম্বইয়ের পক্ষেই, এমনই ধারণা বিশ্লেষকদের। কারণ এতে একদিকে দুইজন কার্যকর ব্যাটার দলে পাবে মুম্বই অন্যদিকে হাতে আসবে অতিরিক্ত অর্থ।
আরো পড়ুন: দেওয়ালে পিঠ থেকে গেল পাকিস্তানের, টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন পাকিস্তানের ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল!
হার্দিককে নেওয়া যুক্তিযুক্ত, তবে অতিমূল্যে নয়:
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনও হার্দিক পাণ্ডেয়া ভারতের অন্যতম সেরা সীমিত ওভারের অলরাউন্ডার। তিনি একজন ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই সঙ্গে মিডল অর্ডারে ব্যাট করার পাশাপাশি, পেস বোলিং করতেও পারেন। তাই তিনি যেকোনো দলের জন্যই বড় সম্পদ।
তবে তার জন্য তাঁকে বিরাট অংকের মূল্য দিয়ে দলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আলোচনা হতে পারে শিবম দুবেকে কেন্দ্র করে। তবে কিন্তু আয়ুষ মাত্রের মতো এমন দীর্ঘমেয়াদি ভারতীয় প্রতিভাকে রিলিজ করে দেওয়া বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে সিএসকের জন্য। একইভাবে দুবে, ব্রেভিস আর ১০ কোটি টাকার প্রস্তাবও অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
এই দুই সম্ভাব্য ট্রেড একটিও বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে, হার্দিকের নামের থেকেও তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এই ভবিষ্যৎ মূল্য বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে সিএসকে।
আরো পড়ুন: টি-২০ ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের তালিকার শীর্ষে কোন ৫ ক্রিকেটার রয়েছেন? ভারতীয়র কোনো জায়গায় নেই!




