কেতন আগরওয়ালে হত্যাকান্ডে তোলপাড় গোটা দেশ, কিন্তু ক্রিকেট-ই 'এক' করেছিল কেতন আর সিয়াকে!
নতুন মোড় এল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল আর ক্রিকেট খেলোয়াড় চেতন চৌধুরীর মধ্যে পুলিশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীরা জানান, ক্রিকেট খেলতে গিয়েই সিয়ার বড় ভাই সাহিল গোয়েলের মাধ্যমে চেতনের ও সিয়ার প্রথম পরিচয়। এরপর ২০২৫-এ একটি দিওয়ালি অনুষ্ঠানে তাঁদের আবারও দেখা হওয়ায় যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়ে।

নতুন মোড় এল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল আর ক্রিকেট খেলোয়াড় চেতন চৌধুরীর মধ্যে পুলিশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীরা জানান, ক্রিকেট খেলতে গিয়েই সিয়ার বড় ভাই সাহিল গোয়েলের মাধ্যমে চেতনের ও সিয়ার প্রথম পরিচয়। এরপর ২০২৫-এ একটি দিওয়ালি অনুষ্ঠানে তাঁদের আবারও দেখা হওয়ায় যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হয়ে।
চেতনের ও সিয়ার মোট ২,০০৪টি ফোন কলের তথ্য পুলিশের হাতে!
কল ডিটেইল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, এই বছরের জানুয়ারি মাসে থেকে মোট ২,০০৪টি ফোন কল হয়েছে চেতনের ও সিয়ার মধ্যে। দুজনের কথোপকথনের মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা। এর থেকেই জানা যাচ্ছে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলই।
সিয়ার ভাই সাহিল গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের!
সেই সূত্র ধরেই সিয়ার ভাই সাহিল গোয়েলকে শুক্রবার প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে অনুমতি দেয় পুলিশ। স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, "আমরা সকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিলাম। অনেক রাতে তাকে যেতে দেওয়া হয়"। তদন্তকারীরা জানান, ক্রিকেট খেলোয়াড় চেতন সম্পর্কে সাহিলের থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সিয়ার বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের বয়ান রেকর্ডের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম চ্যাট ডিলিট করেন সিয়া-চেতন:
এদিকে ডিজিটাল ফরেনসিক এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেদের মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইনস্টাগ্রাম চ্যাট সহ একাধিক ডিজিটাল তথ্য মুছে দিয়েছেন সিয়া আর চেতন। এমনকি খালি করে দিয়েছেন রিসাইকেল বিনও। তাই ডিলিট করা তথ্য উদ্ধার করতে মোবাইল দুটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।
সিয়া আর চেতনের বৈঠন নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা:
তদন্তে আরও দেখা যাচ্ছে, কেতন আগরওয়ালের মারা যাওয়ার ঠিক একদিন আগেই , ১৭ জুন পুনের লুলানগর এলাকায় একটি ক্যাফেতে সিয়া আর চেতনের মধ্যে দীর্ঘ এক ঘণ্টার বৈঠক হয়। বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে বৈঠক। সেই বৈঠকে হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা আলোচনা করা হয়েছিল কি না, সেটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার কেতন আগরওয়াল আর সিয়া গোয়েলের বিয়ের সম্বন্ধ করানো ব্যক্তি নরেন্দ্রকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লোণাবলা গ্রামীণ পুলিশ। জানা গিয়েছে, দুই পরিবারেরই আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে নরেন্দ্রের সঙ্গে। নরেন্দ্র একদিকে কেতনের বাবার মামা, আবার তিনি সিয়ার মা পূজা গোয়েলেরও আত্মীয়।
আরো পড়ুন: শাহরুখ খান একা নন, এবার ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন দল কিনে সবাইকে চমকে দিলেন জন আব্রাহাম!
নরেন্দ্র পুলিশকে জানান, এবছরই জানুয়ারি মাসে কেতন আর সিয়ার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রথমবার আলোচনা হয়। ফেব্রুয়ারিতে সেই আলোচনা এগিয়ে যায়। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বারবার আলোচনা হয়েছে। পরে কেতন আর তাঁর পরিবারের লোকজন সিয়াদের বাড়িতে গিয়ে আলোচনায় স্থির করেন, পুণের একটি হোটেলে হবে তাঁদের বাগ্দান অনুষ্ঠান।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের নরেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র দুটি পরিবারের মধ্যে শুধু পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়ের আলোচনাতেও ছিলেন। এর বাইরে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
তদন্তকারী অফিসাররা মনে করেন, ডিজিটাল প্রমাণ আর জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই মামলার আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবার সামনে আসবে।
আরো পড়ুন: বৈভবকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে কেন খেলানো হল না, এবার এ ব্যাপারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এই ক্রিকেটার!




