'বন্দে মাতরম' বা 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান বলায় কি সত্যিই আপত্তি আছে মহম্মদ শামির?
‘জয় হিন্দ’, 'বন্দে মাতরম’ কিংবা ‘ভারত মাতা কি জয়’— দেশাত্মবোধক এই স্লোগানগুলি কোনও আপত্তি নেই তাঁর। বরং দেশের প্রতি ভালোবাসা আর সম্মানের প্রকাশ বলেই ভারতীয় দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি মনে করেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। কী জানালেন তিনি?

‘জয় হিন্দ’, 'বন্দে মাতরম’ কিংবা ‘ভারত মাতা কি জয়’— দেশাত্মবোধক এই স্লোগানগুলি কোনও আপত্তি নেই তাঁর। বরং দেশের প্রতি ভালোবাসা আর সম্মানের প্রকাশ বলেই ভারতীয় দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি মনে করেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
দেশাত্মবোধক শ্লোগান দিতে কোন অসুবিধা নেই মহম্মদ শামির!
শামিকে প্রশ্ন করা হয় ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ এই স্লোগানগুলি নিয়ে কী মনে করেন তিনি। জবাবে শামি জানান, এই ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি তিনি আগেও হয়েছেন। কিন্তু দেশের নাম নিয়ে এমন স্লোগানগুলি দিতে কোনও সমস্যা নেই তাঁর। তাঁর বক্তব্য, যখন তিনি ‘বন্দে মাতরম’, ‘জয় হিন্দ’ বা ‘ভারত মাতা কি জয়’ উচ্চারণ করছেন, তিনি নিজের দেশের কথাই তিনি বলছেন। তাই তাতে ভয় পাওয়া কিংবা আপত্তির কোনও কারণ তিনি দেখেন না।
দেশের নাগরিকের উচিত দেশের নিয়ম কানুন মেনে চলা ও সম্মান করা!
শামি মনে করেন দেশের নিয়ম-কানুন মেনে চলা ও দেশকে সম্মান করা একজন নাগরিকের কর্তব্য। ‘জয় হিন্দ’ কিংবা ‘ভারত মাতা কি জয়’ উচ্চারণ করলে তাঁর কোনো ক্ষতি হতে পারে? এমন প্রশ্নও করেন তিনি। একইসাথে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের স্লোগানের সঙ্গে জাতি কিংবা ধর্মকে টেনে নিয়ে আসার কোনও অর্থ নেই।
চোট আঘাতের সমস্যায় আক্রান্ত শামি:
অন্যদিকে, বর্তমানে মহম্মদ শামি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কেরিয়ারে চোট-আঘাত প্রভাব ফেলেছে। শেষবার ভারতীয় দলের জার্সিতে এই ডানহাতি পেসারকে দেখা গেছে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেই টুর্নামেন্টে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল শিরোপা জেতে। দলের পেস আক্রমণে শামি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আরো পড়ুন: একসঙ্গে ২৪টি ডিমের অমলেট খান যুবরাজ সিং? অনুশীলনের সময়ে যুবরাজের ডায়েট শুনলে 'থ' হয়ে যাবেন!
জাতীয় দলের পরিকল্পনায় রয়েছে তরুণ পেসাররা:
এরপর আরও কঠিন হয়ে গেছে জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার লড়াই। একাধিক তরুণ পেসারকে নির্বাচকরা সুযোগ দিচ্ছেন। এখন জাতীয় দলের পরিকল্পনায় মুকেশ কুমার, অর্শদীপ সিংহ, আকাশ দীপ, হর্ষিত রানা এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর মতো বোলাররা জায়গা করে নিয়েছেন।
যদিও এখনও শামির জন্য জাতীয় দলের দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি বাংলার হয়ে খেলেও, নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। যদিও তরুণ পেসারদের ভিড়ে তাঁকে আরও নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে আবারও জাতীয় দলে ফেরার জন্য।
২০২৩ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন শামি। হার্দিক পাণ্ডেয়া চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন। তাই তিনি দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত বোলিং করেন শামি ও বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেটশিকারি হিসেবে তিনি প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
তবে এখন প্রশ্ন একটাই, দেশের হয়ে ফের কি মাঠে দেখা যাবে মহম্মদ শামিকে? এখনও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য খোলা থাকলেও, প্রত্যাবর্তনের করতে হলে বড়সড় পারফরম্যান্সের পরীক্ষা দিতে হবে তাঁকে, তা বলাই যায়।
আরো পড়ুন: মহম্মদ শামির কেরিয়ার কী শেষ হয়ে যাবে? এবার সবটা স্পষ্ট করে দিলেন অজিত আগরকর!




