DC vs PBKS: শ্রেয়সের অভিধানে 'হার' বলে কিছু নেই, অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন শ্রেয়স!
জমে উঠেছে আইপিএল ২০২৬-এর আসর। ২২ গজের ময়দানে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তাই এদিন সমালোচকদের জবাব দিতে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটাকেই বেছে নিয়েছিলেন কেএল রাহুল। ইনিংসের শুরু থেকেই কার্যত আগ্রাসী মেজাজে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

জমে উঠেছে আইপিএল ২০২৬-এর আসর। ২২ গজের ময়দানে কার্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তাই এদিন সমালোচকদের জবাব দিতে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচটাকেই বেছে নিয়েছিলেন কেএল রাহুল। ইনিংসের শুরু থেকেই কার্যত আগ্রাসী মেজাজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রথম থেকেই দেড়শোর বেশি স্ট্রাইক রেটে ইনিংস সাজান তিনি। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, রাহুলের স্ট্রাইক রেটও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত তারকা ওপেনার ১৫২ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন। আইপিএলের ইতিহাসে ভারতীয় হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নজির গড়লেন তিনি। এমনকি ছিনিয়ে নিলেন অরেঞ্জ ক্যাপও। একঝাঁক রেকর্ড গড়লেন নিজের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। তবে জলে গেল কেএল রাহুলের ঝোড়ো শতরানও।
পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে জলে গেল রাহুলের সেঞ্চুরি!
রাহুলের দাপটে আইপিএল ২০২৬-এ সর্বোচ্চ দলগত রান করেছিল দিল্লি। রাহুলের পাশাপাশি দারুণ ব্যাটিং করেন নীতীশ রানাও। ৪৪ বলে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯১ রান। তাঁদের পার্টনারশিপে উঠল ২২০ রান, আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ঘরের মাঠে ২৬৪ রান তুলল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু জবাবে একেবারে বিধ্বংসী মেজাজে শুরু করলেন পাঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য এবং প্রভসিমরন সিং। দুই ওপারের বিধ্বংসী ব্যাটিংই পাওয়ার প্লে-তে পাঞ্জাবকে বিনা উইকেটে পৌঁছে দেয় ১১৬ রানে। আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পাওয়ার-প্লে স্কোরের দিক থেকে যা দ্বিতীয় সেরা। এর মধ্যে ষষ্ঠ ওভারে মুকেশ কুমারকে ৬ বলে ছ'টা চার মারলেন প্রভসিমরন। দু'বছর আগে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধেই এই রান করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
আরো পড়ুন: বয়স হয়েছে তাতে কী, 'চেজমাস্টার' তো এমনি এমনি হননি, কোহলিকে নিয়ে এ কী বললেন গাভাস্কার!
পাঞ্জাবের দুই ওপেনার ব্যাটিং ঝড় তুললেন:
পাঞ্জাবের দুই ওপেনার এমন ঝড় তুললেন, যা একেবারে সাইক্লোনের মতো তাবড় দুই ঘূর্ণিঝড়ও ভয় পেতে বাধ্য। তাঁদের ঝোড়ো ব্যাটিংই পাঞ্জাবকে শক্তিশালী জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক শ্রেয়সের ভয়হীন মনোভাব পাহাড়সম রানকে টপকেও নজির গড়ল। তবে পাওয়ার প্লে-র পরের ওভারে পাঞ্জাবকে প্রথম ধাক্কা দেন দিল্লি অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল। ১৭ বলে ৪৩ রানে সাজঘরে ফিরলেন প্রিয়াংশ। খানিক পরেই কুলদীপের ফেরালেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা প্রভসিমরনকেও। ২৬ বলে ৭৬ রানের ঝোড়ো ইনিংসে মারলেন ৯ চার, ৫ ছক্কা। রান পেলেন না কুপার কনলি (১৭)। এরপর খেলা জমিয়ে দিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তবে মাঝে অবশ্য দেখা গেল দিল্লির করুণ ফিল্ডিংও। পরিবর্ত হিসাবে ফিল্ডিং করতে নেমে দু'টি ক্যাচ ফেললেন করুণ নায়ার। কিন্তু কথায় আছে, ভাগ্য সব সময় সাহসীদেরই সঙ্গ দেয়। শ্রেয়সের ক্ষেত্রে এই কথাটাই খাটে। ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন পাঞ্জাব অধিনায়ক।
দিল্লির কাছে মাথানত করল না পাঞ্জাব!
সত্যি বলতে এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনের সাক্ষী থাকল আইপিএল ২০২৬। মাত্র ৩৯ ওভারে দুই দলের স্কোর মিলিয়ে উঠল ৫২৯ রান। রানবন্যার এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসে পাঞ্জাব কিংস গড়ল এক ঐতিহাসিক নজির। প্রতিপক্ষের ২৬৪ রানের বিশাল লক্ষ্যও এদিন যেন অপ্রতুল প্রমাণিত। শেষ পর্যন্ত ৭ বল বাকি থাকতেই মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। এই জয়ের মাধ্যমে টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও নিজেদের নামে লিখিয়ে নিল পাঞ্জাব কিংস।
আরো পড়ুন: KL Rahul: ব্যাট হাতে 'রুদ্রমূর্তি' দেখালেন কেএল রাহুল, করলেন ফাটাফাটি সেঞ্চুরি!
ট্যাগ:


