হঠাৎ করেই ম্যাচের মাঝে বাঁ হাতে ব্যাটিং শুরু! সুনীল গাভাস্কারের এক সিদ্ধান্তেই চমকে গেছিলেন সবাই!
নিখুঁত ব্যাটিং টেকনিকের প্রতীক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সুপরিচিত ‘লিটল মাস্টার’ সুনীল গাভাস্কর। কিন্তু এমন একটি ঘটনা রয়েছে তাঁর ব্যাটিং জীবনে, যা আজও অবাক করে দেয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। দলের পরাজয় রুখতে রঞ্জি ট্রফির এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁহাতি ব্যাটার হয়ে গিয়েছিলেন ডানহাতি গাভাস্কর!

নিখুঁত ব্যাটিং টেকনিকের প্রতীক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সুপরিচিত ‘লিটল মাস্টার’ সুনীল গাভাস্কর। কিন্তু এমন একটি ঘটনা রয়েছে তাঁর ব্যাটিং জীবনে, যা আজও অবাক করে দেয় ক্রিকেটপ্রেমীদের।
ঠিক কী ঘটেছিল ১৯৮১-৮২ মরশুমের রঞ্জি ট্রফিতে?
১৯৮১-৮২ মরশুমের রঞ্জি ট্রফির ঘটনা। বেঙ্গালুরুতে কর্ণাটকের বিপক্ষে খেলতে নামে বোম্বে, বর্তমানে যা মুম্বই নামেই পরিচিত। কর্ণাটকের বাঁহাতি স্পিনার রঘুরাম ভাটের ঘূর্ণিতে ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই মাত্র ২৭১ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বোম্বে। ভাট একাই ৮টি উইকেট শিকার করে নেন।
নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়েছিল বোম্বে!
একইভাবে বোম্বের ব্যাটিংকে দ্বিতীয় ইনিংসেও চাপে ফেলে দিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। তিনি পিচের রাফ জায়গাকে কাজে লাগিয়ে তুলে নেন আরও ৫টা উইকেট। যার ফলে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়ে গিয়েছিল বোম্বে।
ডানহাতি থেকে নিজেই বাঁহাতি ব্যাটার হন গাভাস্কার!
অধিনায়ক গাভাস্কর সেই পরিস্থিতিতে বুঝতে পারেন যে, রঘুরাম ভাটের বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন ডানহাতি ব্যাটাররা। সেই জন্যই ভাটের বোলিংয়ের মোকাবিলা করতে ডানহাতি থেকে নিজেই বাঁহাতি ব্যাটার হয়ে যান অধিনায়ক গাভাস্কর। বাঁহাতি হয়ে গার্ড নেওয়ার পর বল ঘুরে পিচের রাফ থেকে আসতে শুরু করে গাভাস্করের শরীরের দিকে। যার ফলে ব্যাট আর প্যাড দিয়ে বল সমল দেওয়া তাঁর জন্য তুলনামূলকভাবে বেশ সহজ হয়ে যায়।
কখনও ডান কখনও বাম হাতে বাইয়াত করে নজর কাড়েন গাভাস্কার:
তবে এখানেই শেষ হয়নি গাভাস্করের পরিকল্পনা। ভাটের স্পেল কাজে না আশার কারণে অন্য প্রান্ত থেকে কর্ণাটক ডানহাতি স্পিনার বি বিজয়কৃষ্ণাকে নিয়ে আসে। সেই সময় ফের স্বাভাবিক ডানহাতি ব্যাটিংয়ে ফিরে যান গাভাস্কর। অর্থাৎ, বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে বাঁহাতে আবার, ডানহাতি স্পিনারের বিরুদ্ধে ডানহাতে তিনি ব্যাট করে নজর কেড়েছিলেন!
আরো পড়ুন: ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের 'টিকিট' কনফার্ম! কী প্ল্যানিং রশিদ খানদের?
দলকে পরাজয়ের মুখ থেকে উদ্ধার করেন গাভাস্কার:
বাঁহাতে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ব্যাট করে ১৮ রানে গাভাস্কর অপরাজিত থাকেন। শেষ দিনের খেলা শেষে তাঁর সঙ্গে গুলাম পারকরের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে বোম্বে ৯ উইকেটে ২১৮ রান তোলে। অবশেষে ম্যাচটি ড্র হয়। নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে অধিনায়ক গাভাস্কর দলকে বাঁচান।
পরে একটি সাক্ষাৎকারে গাভাস্কর জানান, যেভাবে রঘুরাম ভাটের বল ঘুরছিল, তাতে ডানহাতে ব্যাট করে টিকে থাকা খুবই কঠিন ছিল। সেই জন্যই দলের কথা চিন্তা করেই বাঁহাতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
সুইচ-হিট বা রিভার্স সুইপের যুগ ক্রিকেটে আসার অনেক আগেই গাভাস্করের এই বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দেয়, শুধু নিখুঁত টেকনিক নয়, তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং কৌশল বদলানোর ক্ষেত্রেও ছিলেন অসাধারণ।
আরো পড়ুন: ‘আমি প্রস্তুত...,' ৩৬ বছর বয়সেও ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলতে চান ভুবনেশ্বর কুমার!




