রেকর্ড রান করেও কেন ভারতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারতে হল? শুভমনদের হারের নেপথ্যে কোন কারণগুলি দায়ী?
ব্যাট হাতে রেকর্ড গড়লেও ভারতের ঘরে জয় এল না। রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া।

ব্যাট হাতে রেকর্ড গড়লেও ভারতের ঘরে জয় এল না। রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে টিম ইন্ডিয়াকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাঁচ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। তবে শাই হোপ আর শেরফেন রাদারফোর্ডের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ক্যারিবিয়ানরা ১৮.৩ ওভারেই জয়ের লক্ষ্য অর্জন করে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় রান করেও ভারতকে কেন হেরে যেতে হল? ভারতের হারের মূলে একাধিক কারণ রয়েছে।
হোপ-রাদারফোর্ডের বিস্ফোরক ব্যাটিং!
ভারতের হেরে যাওয়ার মূল কারণ শাই হোপ আর শেরফেন রাদারফোর্ড-এর দুর্দান্ত ব্যাটিং। মাত্র ৪৫ বলে হোপ ১০২ রান করেন। ওদিকে, ৩৭ বলে রাদারফোর্ড ৮৪ রান করে টিম ইন্ডিয়ার বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে। দু’জনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যায়।
প্রতিপক্ষের রান আটকাতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা!
২৫০ রানের গড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারতের সামনে প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে রাখার জন্য সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বোলাররা। ৩.৩ ওভারে ৬৩ রান দেন অক্ষর প্যাটেল। দুই ওভারে শিবম দুবে ৩০ রান খরচ করেন। চার ওভারে ৪৫ রান দেন অর্শদীপ সিং। অতিরিক্ত রান খরচ করার জন্য চাপ তৈরি করা যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের উপর।
মায়াঙ্ক যাদবের লড়াই, কিন্তু সঙ্গীর অভাব:
ভারতের হয়ে চার ওভারে মায়াঙ্ক যাদব ৩৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট শিকার করেন কুলদীপ যাদবও। তবে নিয়মিত উইকেট তুলতে ব্যর্থ হন অন্য বোলাররা। ফলস্বরূপ, মায়াঙ্কের সাফল্য এলেও থামানো যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তোলার দুরন্ত গতি।
ভারতের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন:
বড়রা না রক্ষা করার জন্য শুধুমাত্র উইকেট তোলাই নয়, বাউন্ডারি আটকানোও দরকার। যখন হোপ আর রাদারফোর্ড আক্রমণ শুরু করেন, সেই সময়ে তাঁদের রান তোলার গতি কমানোর ক্ষেত্রে কোন কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি ভারত। লাইন-লেন্থের বদলে, রান আটকানোর কৌশল আর চাপের মুহূর্তে উইকেট তোলার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর থাকতে ভারতকে।
আরো পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফেরানো ভাবনা করে দিল আইসিসি! প্রকাশ্যে এল আসল কারণ!
অভিজ্ঞ পেসারের অভাবেই ভুগল ভারত?
টিম ইন্ডিয়ার এই হারের পর প্রশ্ন উঠছে ভারতের দল নির্বাচন নিয়ে। চাপের সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিংয়ের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে অভিজ্ঞ পেসারদের অভাব লক্ষ্য করা গেছে।বোলারদের পারফরম্যান্স আর প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দেওয়ার কৌশল,সবকিছু নিয়েই আলোচনা চলছে।
ব্যাটিংয়ে রেকর্ড, বোলিংয়ে ভারতের ব্যর্থতা:
৪১ বলে সঞ্জু স্যামসন ৮২ রান করেন। ইশান কিষান করেন ৪৩, শ্রেয়স আইয়ার করেন ৪০ আর অপরাজিত ৪৪ রান করে তিলক বর্মা ২৪৯-এ পৌঁছে দেন ভারতের স্কোর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-২০-তে ভারতের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটিই। তবে ব্যাটারদের এই লড়াইকে বোলিং বিভাগ জয়ে পরিণত করতে ব্যর্থ হন।
বলা যায়, রাঁচিতে ভারতের সামনে আনল তাদের বোলিংয়ের দুর্বলতাকে। প্রতিপক্ষের রান না আটকাতে পেরে, বড় রান করে যে সব সময় ম্যাচ জেতা যায় না, তার প্রমাণ মিলল এদিন। পরের ম্যাচে বোলিং দুর্বলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোই হবে টিম ইন্ডিয়ার একমাত্র চ্যালেঞ্জ।
আরো পড়ুন: পাকিস্তানের টি-২০ দলে আসছেন নতুন অধিনায়ক, ছাঁটাই করা হচ্ছে সলমনকে!




